“কাকে বিয়ে করছ, তার চেয়ে জরুরি তুমি নিজে কী!” পণপ্রথার বলি দুই তরুণী, ইনস্টাগ্রামে বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ!

দেশজুড়ে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পণপ্রথার (Dowry) মতো এক মধ্যযুগীয় সামাজিক ব্যাধি। গত কয়েকদিনে দেশের দুই প্রান্তে দুই উচ্চশিক্ষিত তরুণীর মর্মান্তিক ও রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় দেশ। কোথাও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির পরিবারে আইটি পেশাদারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হচ্ছে, তো কোথাও কোটি টাকা খরচের রাজকীয় বিয়ের পরও বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন গৃহবধূ। এই সামাজিক অবক্ষয়ের আবহে এবার দেশের তরুণীদের উদ্দেশে অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কড়া বার্তা দিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। সোশ্যাল মিডিয়ার চোখ ঝলসানো হাতছানি এড়িয়ে মেয়েদের সবার আগে নিজেদের কেরিয়ার গড়ে আর্থিক স্বাধীনতার দিকে নজর দেওয়ার ডাক দিলেন তিনি।

“সমাজ মেয়েদের একা করে দেয়, নিজের হিরো নিজেই হও”

নিজের চেনা ও চাঁছাছোলা ধাঁচেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি দীর্ঘ নোট শেয়ার করেছেন কঙ্গনা। দেশের তরুণীদের রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তিনি লেখেন, প্রতিদিন সংবাদপত্রে নববিবাহিত তরুণীদের মৃত্যুর এত মর্মান্তিক সব খবর সামনে আসে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই মেয়েদের অনেকেই কিন্তু যথেষ্ট শিক্ষিত। চূড়ান্ত কোনো ট্র্যাজেডি ঘটে যাওয়ার আগে তারা নিজেদের বাপের বাড়ির কাছে, বাবা-মায়ের কাছে বারবার কান্নাকাটি করে এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার আর্জি জানায়। কিন্তু আমাদের ভারতীয় সমাজ এতটাই কুখ্যাত যে, মেয়েরা একবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেলে সমাজ তাদের একপ্রকার ত্যাগ করে, একা করে দেয়।

এর পরেই দেশের যুবতীদের এক চরম সত্য মনে করিয়ে দিয়ে কঙ্গনা লিখেছেন:

“দেশের সমস্ত যুবতীদের আমি একটা পরামর্শ দিতে চাই, যা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, ফ্যাশন বা ডেটিং ইন্ডাস্ট্রি, কিংবা কোনো ওয়েডিং অথবা মেকআপ ইন্ডাস্ট্রি আপনাদের বলবে না। আপনার জীবনে অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে আপনার নিজের কেরিয়ার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র নিজে আর্থিক দিক থেকে স্বাধীন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পরেই বিয়ের কথা ভাববেন। দয়া করে মনে রাখবেন, আপনাকে নিজের হিরো নিজেকেই হতে হবে। কেউ আপনাকে এসে উদ্ধার করবে না বা বাঁচাতে আসবে না।”

কোন দুই ঘটনায় কেঁপে উঠল দেশ?

কঙ্গনা রানাওয়াতের এই তীব্র ক্ষোভ এবং উপদেশের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক দুটি বড় ঘটনা:

  • ১. ভোপালের ত্বিষা শর্মা হত্যাকাণ্ড: নয়ডার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি আইটি পেশাদার তরুণী ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে। তাঁর স্বামী সমর্থ সিং নিজে একজন আইনজীবী এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি! এত বড় ও শিক্ষিত পরিবার হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য লাগাতার অত্যাচার করা হতো বলে অভিযোগ। পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করেছে।

  • ২. গ্রেটার নয়ডার দীপিকা নাগর মৃত্যুকাণ্ড: ২৫ বছর বয়সি তরুণী দীপিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর শ্বশুরবাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে পড়ার পর। মাত্র ১৭ মাস আগে ধুমধাম করে রাজকীয় সেই বিয়েতে মেয়ের পরিবার প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করেছিল! কিন্তু কোটি টাকা খরচ করার পরেও বিয়ের পর থেকে পণের দাবিতে নির্যাতন কমেনি।

জীবন হোক নিজের শর্তে

কঙ্গনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, একজন নারী কাকে বিয়ে করছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি নিজে কী করছেন এবং সমাজে তাঁর নিজের পরিচয় কী। ফ্যাশন বা বিয়ের চাকচিক্যের ফাঁদে না পড়ে প্রত্যেকটি মেয়ের উচিত নিজের শর্তে জীবন তৈরি করা এবং অন্য কারও কথায় কান না দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কঙ্গনার এই রূঢ় কিন্তু বাস্তব উপদেশটি বর্তমানে নেটপাড়ায় তুমুল ভাইরাল এবং প্রশংসিত হচ্ছে।

Editor001
  • Editor001