অনলাইন অ্যাপের বিরুদ্ধে ওষুধিদের মহাধর্মঘট! বাংলায় কতটা প্রভাব? কোন কোন ওষুধের দোকান খোলা রইল বুধবারে?

ই-ফার্মেসি এবং ইনস্ট্যান্ট ওষুধ ডেলিভারি অ্যাপগুলির একচেটিয়া ব্যবসা ও অনৈতিক ছাড়ের বিরুদ্ধে বুধবার দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল শীর্ষস্থানীয় ওষুধ বিক্রেতা সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (AIOCD)। তবে এই বনধের আবহে বুধবার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে দেখা গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বন্ধের আহ্বান সত্ত্বেও রাজ্যের বড় বড় কর্পোরেট ফার্মেসি চেইন, সরকারি জেনেরিক ওষুধের দোকান এবং পাড়া-মহল্লার বেশ কিছু সাধারণ ওষুধের দোকান খোলা থাকায় রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। এর ফলে রাজ্যজুড়ে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলায় ধর্মঘটের প্রভাব ঠিক কতটা?
রাজ্যে এই ধর্মঘটের প্রভাব মূলত ‘বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (BCDA)-এর সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে BCDA-এর অধিভুক্ত প্রায় ৩২,০০০ থেকে ৩৫,০০০ ইউনিটের মধ্যে প্রায় ২৮,০০০ থেকে ৩১,০০০ হলো সাধারণ খুচরো ওষুধের দোকান। বাকি অংশটি পাইকারি বিক্রেতা ও পরিবেশকদের। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পাইকারি ও খুচরো দোকানগুলির একটি বড় অংশ বুধবারের প্রতীকী ধর্মঘটে শামিল হয়েছিল।

খোলা রইল কোন কোন ফার্মেসি?
গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে পরিষেবা দিতে বুধবার সকাল থেকেই স্বাভাবিক ছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র:

সরকারি ও সাশ্রয়ী দোকান: সরকার-সমর্থিত সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের দোকান, যার মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি কেন্দ্র’ (PMBJP) এবং ‘অমৃত’ (AMRIT) ফার্মেসিগুলি সম্পূর্ণ খোলা ছিল।

কর্পোরেট ও হাসপাতাল ফার্মেসি: প্রধান প্রধান কর্পোরেট ফার্মেসি চেইন এবং বিভিন্ন হাসপাতালের ইন-হাউস ফার্মেসি স্টোরগুলি থেকে রোগীরা অনায়াসে ওষুধ কিনতে পেরেছেন।

স্থানীয় খুচরো দোকান: স্থানীয় কিছু স্বাধীন খুচরো ওষুধের দোকানও মানবিকতার খাতিরে জরুরি প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বিক্রির জন্য কাউন্টার খোলা রেখেছিল।

অনলাইন অ্যাপের বিরুদ্ধে কেন খড়্গহস্ত খুচরো বিক্রেতারা?
দেশজুড়ে প্রায় ১২.৪ লক্ষ ওষুধ বিক্রেতার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন AIOCD-এর এই প্রতিবাদের নেপথ্যে রয়েছে দুটি বড় কারণ:

১. ‘ডিপ ডিসকাউন্টিং’ ও আর্থিক ক্ষতি: অনলাইন ই-ফার্মেসি প্ল্যাটফর্ম এবং দ্রুত ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার অ্যাপগুলি অস্বাভাবিক মাত্রায় ছাড় (Deep Discounting) দিচ্ছে। এর ফলে প্রথাগত বা সশরীরে দোকান খুলে বসা ছোট ও মাঝারি খুচরো ওষুধ বিক্রেতারা চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

২. ড্রাগের অপব্যবহার ও ভুয়ো প্রেসক্রিপশন: সংগঠনটির বড় অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রেসক্রিপশন যাচাইকরণের সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ব্যবস্থা নেই। এর ফলে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে নেশা সৃষ্টিকারী বা আসক্তি-বর্ধক ওষুধ পৌঁছে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

কেন্দ্রের আশ্বাস: পর্যালোচনায় রয়েছে আইন
অনলাইন ফার্মেসি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত কিছু ডিজিটাল শিথিলতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছে দাবি জানিয়েছে AIOCD।

সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (National Drug Regulator) সম্প্রতি ফার্মেসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে। ডিজিটাল খাতের আধুনিকীকরণ এবং বাজারের সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা—এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ই-ফার্মেসি খাতকে নিয়ন্ত্রণকারী পুরো বিধি-কাঠামোটি বর্তমানে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।