মুখ্যমন্ত্রী হয়েই চরম সংকটে থালাপথি বিজয়! বামেদের চরম হুঁশিয়ারি, এক মাসের মাথাতেই কি উলটে যাবে তামিলনাড়ুর সরকার?

তামিলনাড়ুর মসনদে বসার পর মাস কাটতে না কাটতেই চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে সুপারস্টার তথা নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপথি বিজয় সি. জোসেফ। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর নানান রাজনৈতিক সমীকরণ ও জোটের মাধ্যমে সরকার গড়েছিল তাঁর দল ‘তামিলনাড়ু ভেত্রি কাজাগাম’ (TVK)। কিন্তু এবার সেই জোট সরকারের অন্দরেই দেখা দিয়েছে তীব্র ফাটল। শাসক জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল সিপিআই(এম) (CPI-M) মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সরাসরি পতন ও সমর্থনের প্রত্যাহারের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সরকারে ফাটলের আসল কারণ কী?
ভেতরের খবর হলো, বিরোধী দল এআইএডিএমকে (AIADMK)-র একটি অংশকে বিজয়ের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে (TVK) ১০৮টি আসন জিতেছিল, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০টি কম। এরপর কংগ্রেস, বাম এবং অন্যান্য ছোট দলগুলির সমর্থনে ১৪৪ জন বিধায়কের শক্তি নিয়ে সরকার গঠিত হয়। কিন্তু এখন বিরোধী শিবিরের একাংশকে সরকারে মন্ত্রীর পদ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হতেই চরম ক্ষুব্ধ বামপন্থী দলগুলো।

‘সরকার থেকে বেরিয়ে যাব’, সিপিআই(এম)-এর সরাসরি হুমকি
সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি. শানমুগাম বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে খোলসা করে দিয়েছেন তাঁদের অবস্থান। তিনি স্পষ্ট জানান:

“আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এমন কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেবেন না। কিন্তু তিনি যদি কোনো বিরোধী দলকে সরকারে নিয়ে আসেন এবং আমাদের আদর্শের পরিপন্থী কাজ করেন, তবে আমাদের পক্ষে এই সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

এআইএডিএমকে-র ভেতরের ভাঙন এবং বিজয়ের অঙ্ক
তামিলনাড়ু বিধানসভার সমীকরণ এই মুহূর্তে বেশ জটিল। গত ১১ মে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থনে সরকার টিকিয়ে রেখেছিলেন বিজয়। কিন্তু নেপথ্যের খেলা অন্য জায়গায়। প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে (AIADMK) বর্তমানে আড়াআড়ি বিভক্ত।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী (বিজয়ের পরোক্ষ সমর্থক): দলের মোট বিধায়কদের মধ্যে এস.পি. ভেলুমণি এবং সি.ভি. শানমুগামের নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি গোষ্ঠী আস্থা ভোটের সময় থালাপথি বিজয়কে পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছিল। বিজয় এখন এই গোষ্ঠীকে পুরস্কৃত করতে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতে চান।

ইপিএস গোষ্ঠী (বিজয়ের বিরোধী): অন্যদিকে, মূল দলপ্রধান এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী (ইপিএস)-র প্রতি অনুগত বাকি ২২ জন বিধায়ক প্রকাশ্যেই এই সরকারের বিরোধিতা করছেন।

তীব্র আদর্শগত সংঘাত
বাম দলগুলির সঙ্গে এআইএডিএমকে-র আদর্শগত বিরোধ দীর্ঘদিনের। সিপিআই(এম) ও অন্যান্য বাম দলগুলির অভিযোগ, এআইএডিএমকে দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের নীতিগুলিকে অন্ধভাবে সমর্থন করে। তাই কোনোভাবেই একটি ‘বিজেপি-ঘেঁষা’ দলের সাথে এক সরকারে বসতে রাজি নয় বামেরা।

থালাপথি বিজয়ের কুর্সি কি তবে সত্যিই ঝুঁকির মুখে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের ওপর। সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী করতে তিনি যদি এআইএডিএমকে-র ২৫ জন বিধায়কের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মন্ত্রী করেন, তবে বামেরা সমর্থন তুলে নেবে এটা নিশ্চিত।

অঙ্কের বিচারে বামেরা সরে গেলেও এআইএডিএমকে-র ২৫ জনের সমর্থনে বিজয়ের সরকার টিকে যাবে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক কেরিয়ারের একেবারে শুরুর ইনিংসেই এই ধরণের নীতিগত বিদ্রোহ এবং জোটের ভাঙন সুপারস্টার বিজয়ের রাজনৈতিক পরিপক্কতার এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে। দক্ষিণের এই হাই-ভোল্টেজ ড্রামা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।