অভিষেকের ‘ফাঁস হওয়া’ নোটিস নিয়ে তোলপাড় রাজ্য! কড়া প্রেস রিলিজ জারি করে সরাসরি আদালতের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি কথিত নোটিস ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। কলকাতা পুরনিগমের (KMC) লেটারহেডে তৈরি ওই নোটিসটি বিজেপি ‘আনঅফিসিয়ালি’ বা অলিখিতভাবে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ শাসক শিবিরের। এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)।
“সব বানানো ও মিথ্যা!” কড়া বিবৃতি তৃণমূলের
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দলের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতি জারি করেছে জোড়াফুল শিবির। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নোটিস এবং তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা সংবাদমাধ্যমের খবর সম্পূর্ণ বানানো, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির আইটি সেল (IT Cell) এবং তাদের প্রথম সারির নেতারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এই ভুয়ো ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন। ওই কথিত নোটিশে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ করার পাশাপাশি দলের অন্যান্য প্রথম সারির নেতাদের নামও জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।
সংবাদমাধ্যমকে কড়া বার্তা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন
তৃণমূলের বক্তব্য, এই পুরো বিষয়টি সাজানো এবং এর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বিরোধী শিবিরের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই সংবাদমাধ্যমের একটি বড় অংশ একতরফাভাবে এই খবরটি প্রচার করে চলেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিবৃতিতে সাংবাদিকদের প্রতি একটি কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ: দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন সাধারণ নৈতিকতাবোধ এবং পেশাদারিত্ব সম্পন্ন সাংবাদিকও যদি ওই নোটিশে উল্লিখিত ঠিকানাগুলিতে যান কিংবা সেখানে দেওয়া ফোন নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করেন, তবেই সত্যটা সামনে চলে আসবে যে এটি কতটা ভুয়ো। কিন্তু তা না করে শুধুমাত্র বিজেপির সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একতরফা খবর পরিবেশন করা হচ্ছে।
হালকাভাবে নেবে না দল, ধেয়ে আসছে আইনি একশন!
সংবাদমাধ্যমকে এই ধরনের বানানো পোস্ট এবং ভুয়ো খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এরপরও যদি কোনো সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Social Media) এই বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর খবর পরিবেশন করা হয়, তবে দল তা হালকাভাবে নেবে না। এই ধরনের ভুয়ো রিপোর্টিং এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্টের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা মানহানির মামলা করা হবে।
আদালতের চৌকাঠে রাজনৈতিক লড়াই?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যে সম্পত্তি ও দুর্নীতি ইস্যুতে শাসক-বিরোধী তরজা এক অন্য মাত্রা নিয়েছে। একদিকে বিজেপি যখন এই কলকাতা পুরনিগমের কথিত নোটিসকে হাতিয়ার করে অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে সুর চড়াচ্ছে, ঠিক তখনই তৃণমূল এই আক্রমণকে শুরুতেই আইনি দেওয়াল তুলে রুখে দিতে চাইছে। রাজনৈতিক ময়দানের এই স্নায়ুযুদ্ধ এবার শেষ পর্যন্ত আদালতের চৌকাঠে পৌঁছায় কি না, এখন সেটাই দেখার।