আরজি কর কাণ্ডের ‘সেই’ বিতর্কিত মুখ এবার শিশুরোগ বিভাগে! তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

ফের বড়সড় বিতর্কের মুখে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল (CNMCH)। আরজি কর কাণ্ডের জট এবং আর্থিক দুর্নীতির ছায়ার মধ্যেই হাসপাতালের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র জলঘোলা। হাসপাতালেরই এক বিতর্কিত কর্মীকে জরুরি বিভাগে বদলি করা নিয়ে আঙুল তুলতে শুরু করেছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

কী রয়েছে সেই বিতর্কিত নির্দেশিকায়?

গত ১৯ মে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার কাম ভাইস প্রিন্সিপ্যাল (MSVP)-এর দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে দেখা যায়, হাসপাতালের মেডিক্যাল রেকর্ড বিভাগে (MRD) ডেটা এন্ট্রি অপারেটর (DEO) হিসেবে কর্মরত প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বা শিশুরোগ বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের সংগঠন এনএমও (NMO)। তাঁদের অভিযোগ, প্রসূন চট্টোপাধ্যায় আরজি কর হাসপাতালের তৎকালীন বিতর্কিত প্রিন্সিপ্যাল সন্দীপ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

আরজি কর সংযোগ ও ইডির তদন্ত

অভিযোগের তির এতটাই গুরুতর হওয়ার কারণ, আরজি কর কাণ্ডের সেই অভিশপ্ত রাতে নির্যাতিতার সেমিনার রুমে প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। তিনি ন্যাশনাল মেডিক্যালের অস্থায়ী কর্মী হওয়া সত্ত্বেও কেন সেদিন আরজি করের ক্রাইম সিনের ভেতরে ছিলেন, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। পরবর্তীতে এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইডি (ED) প্রসূনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

“একজন অস্থায়ী কর্মী হয়েও প্রসূন সেদিন আরজি করের সেমিনার রুমে কী করছিলেন? তিনি সন্দীপ ঘোষ ও তৎকালীন শাসকদলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন তাঁকে আবার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ভবন ও সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছি।” — ডা: অর্ণব কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক, এনএমও (দক্ষিণবঙ্গ)

বিভাগীয় তদন্তের দাবি

চিকিৎসকদের একাংশ এবং এনএমও-র দাবি, প্রসূন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিচারবিভাগীয় এবং নতুন করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। আরজি কর মামলা ও আর্থিক দুর্নীতিতে তাঁর ঠিক কতটা ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি হোক, আর নির্দোষ প্রমাণিত হলে তবেই তিনি কাজ করুন—এমনটাই দাবি আন্দোলনকারীদের।

মুখে কুলুপ প্রসূন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

এই গোটা বিতর্ক এবং বিস্ফোরক অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে প্রসূন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, “এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।” অন্যদিকে, হাসপাতালের এমএসভিপি (MSVP) ডা: অর্ঘ্য মৈত্রও এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি।

তদন্তের আবহে এমন একজন বিতর্কিত কর্মীকে শিশুরোগের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পোস্টিং দেওয়া নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। আগামী দিনে এই জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।

Editor001
  • Editor001