সাধারণ কর্মচারীদের চেয়ে ৩৩২ গুণ বেশি বেতন! বছর শেষে কত কোটি টাকা ঘরে তুললেন টিসিএস সিইও? জানলে চোখ কপালে উঠবে

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (IT) জগতের মহারথী টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতেই কর্পোরেট পাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আর হবেই বা না কেন, কোম্পানির শীর্ষ কর্তাদের বার্ষিক বেতনের যে খতিয়ান সামনে এসেছে, তা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। টিসিএস-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. কৃতিবাসন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট ২৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। যা আগের বছরের তুলনায় এক ধাক্কায় ৬.৩ শতাংশ বেশি।
তবে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, কৃতিবাসন যেখানে কোটির ঘরে খেলছেন, সেখানে টাটা গ্রুপ এবং টিসিএস-এর মহীরুহ তথা চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন এই আইটি কোম্পানিটি থেকে কোনো লভ্যাংশ বা কমিশনই নেননি! পুরো অর্থবর্ষের জন্য তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪.২ লক্ষ টাকা, যা কেবলই তাঁর সিটিং ফি। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নীতিগত কারণেই চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখরন কোম্পানি থেকে কোনো কমিশন নেননি।
কৃতিবাসনের ২৮ কোটির প্যাকেজে কী কী আছে?
টিসিএস সিইও কে. কৃতিবাসনের এই বিপুল অঙ্কের বেতনের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাবও দেওয়া হয়েছে বার্ষিক রিপোর্টে। তাঁর এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে—
মূল বেতন (Basic Salary): ১.৬৭ কোটি টাকা
ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: ১.৪৩ কোটি টাকা
কমিশন (Performance-based Commission): ২৫ কোটি টাকা (মূলত কোম্পানির ভালো পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এই বোনাস দেওয়া হয়েছে)।
কর্মচারীদের চেয়ে ৩৩২ গুণ বেশি বেতন! কার কত বাড়ল?
রিপোর্টে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। টিসিএস-এর একজন সাধারণ কর্মীর গড় বেতনের তুলনায় সিইও কৃতিবাসনের পারিশ্রমিক ঠিক ৩৩২.৮ গুণ বেশি! তবে কোম্পানি তাদের কর্মচারীদেরও হতাশ করেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে টিসিএস কর্মীদের গড় পারিশ্রমিক ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতে জুনিয়র এবং মধ্যম স্তরের আইটি কর্মীদের বার্ষিক বেতন ৪.৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, যে সমস্ত উচ্চ-কর্মক্ষমতাসম্পন্ন (High-performing) কর্মীরা সারা বছর দুর্দান্ত কাজ করেছেন, তাঁদের ইনক্রিমেন্ট হয়েছে দুই অঙ্কের (Double-digit) ঘরে।
রেকর্ড ভাঙা মুনাফা টিসিএস-এর ঘরে
বেতন বৃদ্ধির এই জোয়ারের নেপথ্যে রয়েছে কোম্পানির দুর্দান্ত আর্থিক ফলাফল। সদ্য সমাপ্ত মার্চ ত্রৈমাসিকে (Q4) টিসিএস-এর নিট মুনাফা ১২.২২% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৭১৮ কোটি টাকায়।
পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দিকে তাকালে দেখা যাবে, কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট লাভ ১.৩৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,২১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ৪৮,৫৫৩ কোটি টাকা। এছাড়া, চতুর্থ ত্রৈমাসিকে কোম্পানির পরিচালন আয় ৯.৬৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৭০,৬৯৮ কোটি টাকা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ অর্থবর্ষে তা ৪.৫৮% বৃদ্ধির মুখ দেখে ২.৬৭ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল অঙ্কে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্দার বাজারেও টাটাদের এই জয়জয়কার আইটি সেক্টরে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।