লুঙ্গি পরে ভেড়িতে নৌকা চালালেন দিলীপ ঘোষ! জাল ফেলে তুললেন মাছ, তার পর যা করলেন দেখলে চমকে যাবেন

শনিবারের সকালটা আর পাঁচটা দিনের মতো ছিল না বিধাননগরের খাসমবল এলাকায়। একেবারে চেনা মেজাজে, খোশমেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাতসকালে খাসমবলের এক বিস্তীর্ণ ভেড়িতে নিজেই নৌকা বাইলেন, কাঁধ ঝাঁকিয়ে জাল ফেললেন জলে এবং তুললেন জ্যান্ত মাছ। শুধু মাছ ধরাই নয়, এরপর ভেড়ির পাড়ে বসেই চলল জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। দুই থালা গরম গরম মাছ ভাজা আর মুড়ি দিয়ে প্রাতরাশ সারলেন মন্ত্রী। সঙ্গে গলা ভেজালেন ডাবের জলে, চলল চা-বিস্কুটের পর্বও।
এদিন মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুলের মালা, তোড়া আর মিষ্টি দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। চারপাশের ভিড় আর সেলফি তোলার আবহে কার্যত উৎসবের মেজাজ তৈরি হয় খাসমবলে।
“দখলমুক্ত হয়েছে ভেড়ি, ফিরেছে মুখের হাসি”
হঠাৎ কেন এই মাছ ধরার কর্মসূচি? তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ নিজেই। তাঁর দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই দীর্ঘদিনের অরাজকতার অবসান ঘটেছে। এলাকার ভেড়িগুলি আবার প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরে এসেছে।
নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মন্ত্রী বলেন:
“এই ভেড়িগুলো সব আমাদের লোকজনের থেকে জোর করে দখল করে নেওয়া হয়েছিল। এখন ওরা নিজেদের অধিকার ফেরত পেয়েছে, আবার নতুন করে চাষ শুরু করেছে। ওদের আনন্দ ভাগ করে নিতেই আজ এখানে আসা। ২০২১ সালে আমরাই প্রথম এই ভেড়িতে মাছ ছেড়েছিলাম। তারপর সব দখল হয়ে গিয়েছিল। এখন মালিকরা তাঁদের ভেড়ি ফিরে পেয়ে সত্যিই খুব খুশি।”
নতুন মন্ত্রক ও নতুন আশার আলো
কয়েক দিন আগেই রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দফতরের গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এর আগে তৃণমূল জমানায় এই গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং পরবর্তীতে প্রদীপ মজুমদার। অন্য দিকে, প্রাণী সম্পদ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন স্বপন দেবনাথ।
দায়িত্ব বদলের পর এই প্রথম কোনও মন্ত্রীকে সরাসরি মাঠে নেমে সাধারণ মৎস্যজীবীদের সঙ্গে এভাবে মেলামেশা করতে দেখা গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জনসংযোগের মাধ্যমে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইলেন যে, নতুন প্রশাসন গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গতি আনতে বদ্ধপরিকর। উল্লেখ্য, এই দফতরে বসার পরই রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও শুনিয়েছেন নতুন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। শনিবারের এই ভিন্ন মেজাজের জনসংযোগ সেই লক্ষ্যেই আরও এক ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।