ডলারের দাপটে কোণঠাসা ভারতীয় টাকা! সোনা থেকে জ্বালানি তেল, কোন কোন জিনিসের দাম বাড়তে চলেছে?

বিশ্ব বাজারের তীব্র টানাপোড়েন এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে রেকর্ড পতন ঘটল ভারতীয় টাকার মূল্যে। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম সর্বকালীন সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে ঠেকেছে। যার জেরে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং আমদানির বাজারে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও টাকার এই ধারাবাহিক পতন রুখতে হিমশিম খাচ্ছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।

বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি লগ্নিকারীদের (FII) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ক্রমাগত টাকা তুলে নেওয়ার ফলেই এই ধস নেমেছে। বিশ্ব বাজারে ডলারের চাহিদা আচমকা বেড়ে যাওয়ায় ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলো প্রবল চাপের মুখে পড়েছে।

টাকার এই ঐতিহাসিক পতনের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে। যেহেতু ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে, তাই ডলারের নিরিখে আমদানি খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। এর জেরে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ভোজ্য তেল এবং পরিবহনের খরচও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

শুধু তাই নয়, যে সমস্ত ভারতীয় পড়ুয়ারা বিদেশে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের খরচও আগের চেয়ে অনেকটাই বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের খরচ এবং আমদানি করা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে সফটওয়্যার রপ্তানিকারক সংস্থা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের (NRI) পাঠানো টাকার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা মিলতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (RBI) ইতিমধ্যেই বাজার থেকে ডলার বিক্রি করে টাকার পতন সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি যতদিন না স্থিতিশীল হচ্ছে, ততদিন ভারতীয় অর্থনীতির ওপর এই চাপ বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন শীর্ষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।