“ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক…” বুক চিতিয়ে হুঙ্কার দেওয়া সেই হাফিজুলকে কীভাবে জালে পুরল শুভেন্দুর পুলিশ?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে চলছে একের পর এক বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ও অ্যাকশন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার এক হেভিওয়েট নাম। বিরোধীদের ওপর ‘স্টিম রোলার’ চালানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে খবরের শিরোনামে আসা দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা দেউলি পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে এখন পুরোপুরি ‘টি-টোয়েন্টি’ বা মারকুটে মুডে ব্যাটিং করছেন, এই গ্রেফতারি তারই আরও এক বড় প্রমাণ।

নির্বাচনের সময় এবং তার পরবর্তী পর্বে জীবনতলা এলাকায় হাফিজুল মোল্লার কিছু উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং বিরোধীদের হুমকি দেওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে তিনি প্রকাশ্য জনসভা থেকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছিলেন এবং বিরোধীদের পিষে ফেলার হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ধরণের উস্কানিমূলক মন্তব্য রুখতে লালবাজার ও জেলা পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জীবনতলায় অভিযান চালিয়ে হাফিজুলকে জালে তোলে।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, ভোটে দলের ভরাডুবির পর থেকেই জেলা স্তরের একাধিক বড় নেতা কার্যত কোণঠাসা। তার ওপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে একের পর এক দুর্নীতি ও উস্কানিমূলক মামলার ফাইল খুলে অ্যাকশন নিচ্ছেন, তাতে ঘুম উড়েছে বহু বিদায়ী নেতার। হাফিজুলের এই আকস্মিক গ্রেফতারি নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিগত দিনে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে যাঁরা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন এবং উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়ে শান্ত এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন, আইন মেনেই তাঁদের একে একে শাস্তি পেতে হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এই গ্রেফতারির নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছে। তবে নবান্ন সূত্রের স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলমত নির্বিশেষে এই ধরণের কঠোর পদক্ষেপ আগামী দিনেও জারি থাকবে। হাফিজুলকে আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।