দুধসাগরের জলপ্রপাত যেন জীবন্ত দুধের নদী! ভরা বর্ষায় গোয়ার সাউথ বিচে এ কেমন রূপ? চোখ কপালে পর্যটকদের

ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে এখন বর্ষার শুরু। আর এই মেঘ-বৃষ্টির মরসুমেই সাধারণত গোয়ার সমুদ্র সৈকতগুলি থাকে শান্ত, পর্যটকদের আনাগোনাও থাকে নামমাত্র। কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাসের এই শুরুতেই সমস্ত চেনা হিসেবনিকেশ উল্টে গেল। তথাকথিত ‘অফসিজন’ বা মন্দার মরসুমেও এখন পর্যটকে কার্যত ঠাসা ভারতের এই আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। রেকর্ড বুকিংয়ের জেরে গোয়ার উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই এখন তিল ধারণের জায়গা নেই।

ট্যুর অপারেটর এবং স্থানীয় হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, মে মাসের মাঝামাঝি এসে যেভাবে বুকিংয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, তা গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ গোয়ার ‘সাউথ বিচ’ এবং অরণ্যঘেরা বিখ্যাত ‘দুধসাগর জলপ্রপাত’ চত্বরে এখন উপচে পড়ছে ভিড়। বর্ষার আগমনে দুধসাগর জলপ্রপাতের জলধারা এখন পূর্ণ যৌবনা। ওপর থেকে ধেয়ে আসা সাদা জলের রাশি দেখতে সকাল থেকেই পর্যটকদের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে।

কেন এই অফসিজনেও রেকর্ড ভিড়?

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক ভিড়ের পেছনে রয়েছে মূলত দুটি কারণ। প্রথমত, বর্ষার শুরুতে গোয়ার বিমান ভাড়া এবং বিলাসবহুল হোটেল বা রিসোর্টের বুকিংয়ের খরচ শীতকালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বা তারও কম থাকে। ফলে কম খরচে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিতে বহু মধ্যবিত্ত ও চাকুরিজীবী এই সময়টাকে বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, বর্ষার ছোঁয়ায় গোয়ার জঙ্গল এবং পাহাড়ি চত্বর যে সবুজ রূপ ধারণ করে, তা দেখতেই মূলত অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও যুবপ্রজন্মের ভিড় বাড়ছে।

তবে এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছুটা চিন্তায় স্থানীয় প্রশাসনও। বর্ষার উত্তাল সমুদ্রের কারণে ইতিমধ্যেই সাউথ বিচের বেশ কিছু অংশে পর্যটকদের নামার ক্ষেত্রে লাল সতর্কতা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত লাইফগার্ড। ট্রাভেল এজেন্টদের একাংশ জানাচ্ছেন, জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত গোয়ার ভালো হোটেলগুলির সিংহভাগ রুম ইতিমধ্যেই বুকড। তাই আপনিও যদি এই বর্ষায় গোয়ার মেঘ-বৃষ্টি আর সমুদ্রের মেলবন্ধন উপভোগ করতে চান, তবে তড়িঘড়ি প্ল্যানিং সেরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।