থানায় ডেকেই চলত জমি দখল! ডিসিপি শান্তনুর পর লালবাজারের কোন ১২ কর্তার ঘুম ওড়ালো ইডি?

কলকাতা পুলিশের সদ্য গ্রেফতার হওয়া ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পর এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) রাডারে লালবাজারের আরও এক ডজন দাপুটে অফিসার। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে থাকা এই ১২ জন আধিকারিকের মাধ্যমেই খাস কলকাতায় চলত জোরপূর্বক জমি দখলের মস্ত বড় এক সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যেই এই অফিসারদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

বৃহস্পতিবার টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার করা হয় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। ইডি সূত্রে খবর, ধৃত এই আইপিএস কর্তার মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করার পর থেকেই চাঞ্চল্যকর সমস্ত তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শান্তনুবাবু গ্রেফতার হওয়ার আগে তাঁর ফোনের বহু চ্যাট এবং নথি মুছে (ডিলিট) ফেলেছিলেন। ফরেনসিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে সেই ডিলিট হওয়া ডেটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাতেই এই ১২ জন পুলিশ অফিসারের নাম সামনে আসে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, এই ১২ জন অফিসারকে মোটা টাকার বিনিময়ে শহরের বিভিন্ন লাভজনক থানায় পোস্টিং পাইয়ে দিয়েছিলেন শান্তনু। আর তার পরিবর্তে চলত পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা। সিন্ডিকেটের মূল পান্ডা সোনা পাপ্পু এবং বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের হয়ে সাধারণ জমি মালিকদের থানায় ডেকে পাঠানো হতো। এরপর উর্দি আর লক-আপের ভয় দেখিয়ে, জোর করে সই করিয়ে হাতানো হতো কোটি কোটি টাকার জমি।

শুধু জমি দখলই নয়, ধৃত পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে বালি পাচার চক্র এবং এনআরআই কোটায় মোটা টাকার বিনিময়ে মেডিকেলে ভর্তি পাইয়ে দেওয়ার মতো দুর্নীতির যোগও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শান্তনুর এই বিপুল আর্থিক সাম্রাজ্য এবং প্রভাবের পেছনে লালবাজারের আর কোন কোন বড় মাথা জড়িয়ে রয়েছে, তা জানতেই শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইডি। জেরা শুরু হলেই কলকাতার পুলিশ মহলের আরও অনেক বড় গোপন তথ্য ফাঁস হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Editor001
  • Editor001