সাবধান! আপনার রক্তেও কি মিশছে এই ‘অমর’ বিষ? চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে ঘুম উড়ল বিজ্ঞানীদের!

প্রতিদিনের রান্নার নন-স্টিক কড়াই, সাধের ওয়াটারপ্রুফ পোশাক কিংবা মেকআপ কিট— অজান্তেই কি আপনার শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে এক মারণ বিষ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক হাড়হিম করা তথ্য। বিজ্ঞানীদের দাবি, পরীক্ষা করা রক্তের নমুনাগুলোর মধ্যে ৯৮ শতাংশেরও বেশিতে মিলেছে ‘পিএফএএস’ (PFAS) নামক এক কৃত্রিম রাসায়নিকের উপস্থিতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ডাকা হচ্ছে ‘ফরএভার কেমিক্যালস’ বা ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ নামে।

সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি’ নামক আন্তর্জাতিক স্তরের এক বৈজ্ঞানিক জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

কী এই ‘ফরএভার কেমিক্যালস’?
গবেষকরা জানিয়েছেন, পিএফএএস (পার- এবং পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবস্ট্যান্সেস) হলো সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান। এর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এটি প্রাকৃতিকভাবে খুব ধীরে ধীরে ভাঙে। ফলে একবার যদি মাটি, জল কিংবা মানুষের শরীরে এটি প্রবেশ করে, তবে দশকের পর দশক তা অবিকৃত অবস্থায় টিকে থাকতে পারে। আর এই কারণেই এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’। আমাদের অতি পরিচিত ফাস্ট ফুডের প্যাকেট, জলরোধী জামাকাপড়, নন-স্টিক বাসনপত্র এবং বিভিন্ন নামী প্রসাধনী তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে এই উপাদান।

১০ হাজারেরও বেশি নমুনায় পরীক্ষা
আমেরিকার গবেষকরা প্রায় ১০,৫৬৬টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে এই সমীক্ষাটি চালিয়েছেন। রিপোর্ট বলছে, এর মধ্যে প্রায় ৯৮.৮ শতাংশ রক্তেই থাবা বসিয়েছে এই ক্ষতিকর কেমিক্যাল। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিপুল পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বিশ্বের একটা বিরাট অংশের মানুষ প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে এই বিষের সংস্পর্শে আসছেন। রক্তে এই কেমিক্যাল থাকা মানেই যে মানুষটি তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পড়বেন এমনটা নয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে শরীরে এর মাত্রা বাড়তে থাকলে তা মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।

হতে পারে ক্যান্সারও! শরীরে ঠিক কী কী ক্ষতি করে এই বিষ?
চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহে ক্রমাগত এই রাসায়নিক জমতে থাকলে তা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দেয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে:

লিভার বা যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি।

শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়া।

রক্তে আচমকা কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি।

এমনকি বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন এই কেমিক্যালের সংস্পর্শে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?
এই অদৃশ্য বিষের হাত থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া কঠিন হলেও, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এর প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. বাসনপত্র ব্যবহারে বদল: রান্নাঘরে নন-স্টিক পাত্রের ব্যবহার যথাসম্ভব কমান। পাত্রে স্ক্র্যাচ বা দাগ পড়ে গেলে তা দ্রুত বদলে ফেলুন।
২. খাবারে নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত প্যাকেটজাত খাবার বা বাইরের ফাস্ট ফুড খাওয়া এড়িয়ে চলুন। কারণ এই ধরনের খাবারের প্যাকেজিংয়ে দেদার পিএফএএস ব্যবহার করা হয়।
৩. পণ্যের গুণমান যাচাই: প্রসাধনী বা পোশাক কেনার আগে তা ‘PFAS-মুক্ত’ বা ‘PFAS-Free’ কিনা তা দেখে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. পরিচ্ছন্নতা: ঘরের ধুলোবালি থেকেও এই কেমিক্যাল ছড়াতে পারে। তাই নিয়মিত ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং পানীয় জলের গুণমানের দিকে বাড়তি নজর দিন।