“পাঁচবার ‘না’ করার পর নিজেই হাজির!”-সুজিত বসুর পর এবার কি রথীন ঘোষের পালা?

পুরসভায় নিয়োগ-দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে নাটকীয় মোড়। অন্তত পাঁচবার ইডি-র সমন এড়িয়ে যাওয়ার পর, শুক্রবার সকালে আচমকাই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দপ্তরে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়াই তাঁর এই আকস্মিক হাজিরা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

একাধিক সমন ও মন্ত্রীর অবস্থান

দমদম পুরসভার নিয়োগ-দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রথীন ঘোষকে এর আগে বেশ কয়েকবার তলব করেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তবে প্রতিবারই শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার সকালে তাঁর সশরীরে ইডি দপ্তরে পৌঁছে যাওয়া কার্যত সবাইকে চমকে দিয়েছে। সূত্রের খবর, দমদম পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও গ্রেফতারি প্রসঙ্গ

পুরসভা নিয়োগ-দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে অত্যন্ত তৎপর। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর থেকেই রথীন ঘোষের ওপর তদন্তকারীদের নজর ছিল। ইডি সূত্রে খবর, দমদম পুরসভায় যখন নিয়োগ প্রক্রিয়া চলেছিল, সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য রথীন ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য

কেন হঠাৎ কোনো নোটিস ছাড়াই তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বারবার সমন এড়িয়ে যাওয়ার পর আইনি জটিলতা এড়াতেই হয়তো এই পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। আবার কারোর মতে, এই মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য ইডি-র হাতে এসেছে যা রথীন ঘোষের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারত।

বর্তমানে সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। এই জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন না কি নতুন কোনো বিপাকে পড়েন, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।