সমুদ্র চিরে তৈরি হচ্ছে রাস্তা! দক্ষিণ কোরিয়ার এই ‘অলৌকিক’ পথে হেঁটেই পার হওয়া যায় মাঝ দরিয়া

রূপকথার গল্পে আমরা অনেকেই শুনেছি সমুদ্র দু-ভাগ হয়ে রাস্তা তৈরি হওয়ার কাহিনী। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো দ্বীপে (Jindo Island) গেলে আপনি নিজের চোখেই দেখতে পাবেন সেই দৃশ্য। যেখানে উত্তাল সমুদ্র পথ ছেড়ে দেয় মানুষের হাঁটার জন্য। প্রকৃতির এই অবিশ্বাস্য খেলাই এখন বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
বছরে মাত্র দুবার ঘটে এই অলৌকিক ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো দ্বীপের সমুদ্রের জল বছরে মাত্র দুবার হঠাৎ সরে যায়। এর ফলে সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে প্রায় ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪০-৬০ মিটার চওড়া একটি রাস্তা জেগে ওঠে। এই প্রাকৃতিক রাস্তাটি জিন্ডো দ্বীপকে সরাসরি মোডো এবং সেওডো দ্বীপের সাথে সংযুক্ত করে। বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে এটি ‘জিন্ডো সাগর বিভাজন’ (Jindo Sea Parting) বা ‘মোজেস মিরাকল’ নামে পরিচিত।
নেই কোনো জাদু, নেপথ্যে বিজ্ঞানের খেলা
শুনতে অলৌকিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বিশুদ্ধ বিজ্ঞান। মূলত জোয়ার-ভাটার বিশেষ প্রভাবই এই বিস্ময়ের মূল কারণ। যখন সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে, তখন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে তলদেশের পলি ও মাটির স্তরটি ভেসে ওঠে। বিজ্ঞানের এই নিখুঁত সমীকরণই বছরে দুবার সমুদ্রের মাঝখানে এই কাঁচা রাস্তাটি তৈরি করে।
মাত্র ৬০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস সফর
এই জাদুকরী রাস্তাটি কিন্তু সারাদিনের জন্য থাকে না। এটি স্থায়ী হয় মাত্র ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের জন্য। পর্যটকদের জন্য এটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই বিপজ্জনক। যদি কেউ এই সময়ের মধ্যে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে পৌঁছাতে না পারেন বা সঠিক সময়ে ফিরে না আসেন, তবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ নিমেষেই তাঁকে গ্রাস করতে পারে। তাই ঘড়ি ধরে চলে এই সমুদ্র জয়ের অভিযান।
জিন্ডো মিরাকল ফেস্টিভ্যাল: পর্যটকদের ভিড়
যখনই এই রাস্তাটি উন্মোচিত হয়, তখন সেখানে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘জিন্ডো মিরাকল ফেস্ট’ (Jindo Miracle Sea Parting Festival) নামে পরিচিত। সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার পর্যটক এবং ফটোগ্রাফার এই বিরল দৃশ্য সরাসরি দেখার জন্য এবং সমুদ্রের বুক চিরে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় জমান। এই সময় পর্যটকরা কাদা এবং অগভীর জলে দাঁড়িয়ে সামুদ্রিক ঝিনুক বা শ্যাওলা সংগ্রহ করার আনন্দও উপভোগ করেন।
প্রকৃতির এই রহস্যময় রূপ আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, আমাদের এই পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক বিস্ময় লুকিয়ে আছে যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানাতে পারে।