“১ নম্বরের সেই আক্ষেপ আজ ইতিহাস!”-মাধ্যমিকে ধাক্কা খেয়েই উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে তৃতীয় শুভায়ন

বছর দুয়েক আগে মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের দিন বুকটা ফেটে গিয়েছিল তাঁর। মাত্র এক নম্বরের ব্যবধানে হাতছাড়া হয়েছিল মেধা তালিকায় থাকার সুযোগ। দশম স্থানে না থাকতে পারার সেই আক্ষেপই হয়ে উঠেছিল একাদশ শ্রেণির জ্বালানি। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরোতেই দেখা গেল, নিজের জেদ আর পরিশ্রমে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন বীরভূমের সিউড়ি পাবলিক এন্ড চন্দ্রগতি মুস্তাফি মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ছাত্র শুভায়ন মণ্ডল। ৪৯৪ নম্বর পেয়ে রাজ্যে অভাবনীয়ভাবে তৃতীয় স্থান দখল করেছেন তিনি।

হার না মানা লড়াইয়ের গল্প মাধ্যমিকে শুভায়নের প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৮৩। সেবার একাদশ স্থান পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তবে এবার আর কোনো ভুল করেননি তিনি। টিভির পর্দায় নিজের নাম শোনার মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে শুভায়ন বলেন, “মেধা তালিকায় থাকার আশা ছিল, কিন্তু একবারে তৃতীয় হব—তা ভাবিনি।” ছেলের সাফল্যে চোখে জল বীরভূমের এই মেধাবী ছাত্রের বাবা-মায়ের। তাঁর বাবা পেশায় একজন সংস্কৃতের শিক্ষক।

সাফল্যের মন্ত্র: ঘড়ি ধরা পড়াশোনা নয় প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করতেই ভালোবাসেন শুভায়ন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কোনো দিন ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময় মেপে পড়েননি। তাঁর কথায়, “যতক্ষণ পড়ার ইচ্ছা করত বা মন বসত, ততক্ষণই পড়তাম। কোয়ালিটি পঠনপাঠনেই আমি বিশ্বাস করি।” বাড়িতে বাবা-মায়ের সাহায্যের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়েই তাঁর গৃহশিক্ষক ছিল। নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব স্কুল ও গৃহশিক্ষকদের পাশাপাশি পরিবারকেই দিতে চান এই কৃতী ছাত্র।

লক্ষ্য এবার ডাক্তার হওয়া ছোটবেলা থেকেই স্টেথোস্কোপ হাতে মানুষকে সেবা করার স্বপ্ন দেখেন শুভায়ন। সেই লক্ষ্যেই এ বছর ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি। যদিও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে সেই পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকার। এই খবরে সাময়িকভাবে খারাপ লাগলেও দমে যেতে রাজি নন তিনি। শুভায়নের স্পষ্ট বক্তব্য, “পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় খারাপ তো লেগেছেই, কিন্তু স্বচ্ছভাবে যদি আবার পরীক্ষা হয় তবে প্রকৃত মেধাবীরাই সুযোগ পাবে। আমি আবার নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করেছি।”

শুভেন্দুর শুভেচ্ছা বার্তা শুভায়নের এই রাজকীয় সাফল্যে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বীরভূমের এডিএম সৌভিক চট্টোপাধ্যায় শুভায়নের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো পদ্মফুলের তোড়া, মিষ্টি এবং বিশেষ অভিনন্দন বার্তা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। মেধা তালিকায় ৬৪ জনের ভিড়ে বীরভূমের এই ছেলের লড়াই এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। ছোট শহর থেকে উঠে এসে কীভাবে বড় স্বপ্ন জয় করা যায়, শুভায়ন যেন আরও একবার তা হাতে কলমে দেখিয়ে দিলেন।