বিয়ের আসরেই অগ্নিকাণ্ড! গায়ে হলুদের তপ্ত তেলেই দগ্ধ খোদ কনে সহ ১২ জন, কানপুরে চরম হাহাকার

আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা ছিল গোটা বাড়ি। হাতে মেহেন্দি আর গায়ে হলুদের রঙে সেজে উঠেছিলেন কনে শ্বেতা। কিন্তু এক নিমেষেই সেই হিল্লোল বিষাদে পরিণত হলো। বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ঘাটামপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কনে এবং তাঁর বাবা সহ ১২ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
ঘাটামপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ প্রসাদের মেয়ে শ্বেতার বিয়ে ছিল বৃহস্পতিবার। কানপুর থেকে বরযাত্রী আসার কথা ছিল। বুধবার রাত থেকেই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে জমজমাট ছিল বাড়ি। চলছিল মেহেন্দি ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। অতিথিদের জন্য বাড়ির বাইরে উনুন জ্বালিয়ে চলছিল রান্নার কাজ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রান্নার সময় হঠাৎই গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ লিক করে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। গ্রামবাসীরা যখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই উনুনের ওপর রাখা গরম তেলের একটি বড় কড়াই উল্টে যায়। সেই ফুটন্ত তেল ছিটকে এসে পড়ে কনে শ্বেতা, তাঁর বাবা জগদীশ, ফটোগ্রাফার শিবা এবং আরও ৯ জন আত্মীয়ের গায়ে।

রণক্ষেত্র হাসপাতাল চত্বর
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় ঘাটামপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (CHC) নিয়ে যাওয়া হয়। তবে একসঙ্গে এত দগ্ধ রোগী আসায় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবার অভাবে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসকেরা কনে সহ ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কানপুর শহরের বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

শোকস্তব্ধ গ্রাম
ঘাটামপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ সিং ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, দমকলের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে, যে বাড়িতে সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। শ্বেতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়ায় বৃহস্পতিবারের বিয়ে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেহেন্দির সাজে বিয়ের পিঁড়িতে বসার বদলে কনে এখন হাসপাতালের বিছানায়, এই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না জগন্নাথপুরের বাসিন্দারা। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন— ভাগ্যের এই পরিহাস কাটিয়ে শ্বেতা কি আবার হাসিমুখে মণ্ডপে ফিরতে পারবেন?