রাজ্যের শিক্ষার হাল ফেরান! খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিও কলেই আর্জি প্রথম হওয়া আদৃতের বাবার, কী বললেন শুভেন্দু?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হলো ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। মাত্র ৭৬ দিনের মাথায় রেকর্ড সময়ে ফলপ্রকাশ করে নজির গড়ল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এবারের পরীক্ষায় নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদৃত পাল ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। কৃতি এই ছাত্রের সাফল্যের দিনে ভিডিও কলে সরাসরি তাঁর ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শিক্ষার ‘হাল’ ফেরানোর আর্জি
এদিন ভিডিও কলে কথোপকথনের সময় এক অভূতপূর্ব মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। প্রথম স্থান অধিকারী আদৃত পালকে অভিনন্দন জানানোর সময় তাঁর বাবা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানান। তিনি সরাসরি আর্জি জানান যাতে রাজ্যের বর্তমান ‘শিক্ষার হাল’ ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শুভেন্দু অধিকারীও কৃতি ছাত্রের পরিবারের এই আবেদন গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন।
এক নজরে এবারের ফলাফল ও মেধা তালিকা
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার। পাসের হারের দিক থেকে মেধা তালিকায় ছাত্রদের জয়জয়কার লক্ষ্য করা গিয়েছে।
প্রথম স্থান: নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের আদৃত পাল (প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬)।
মেধা তালিকা: এ বছর মোট ৬৪ জন মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। যার মধ্যে ছাত্রদের সংখ্যা ৫৬ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৮ জন।
বিশেষ সাফল্য: এবার তৃতীয় লিঙ্গের (Third Gender) পরীক্ষার্থীও সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক দিক।
ছাত্রী সংখ্যা: মেধা তালিকায় পিছিয়ে থাকলেও মোটের ওপর ৬৮০০টি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণের হার ছিল চোখে পড়ার মতো। ছাত্রদের তুলনায় ৬৬,৬২৩ জন বেশি ছাত্রী এবার পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও নতুন নিয়ম
এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষক সংকট কাটাতে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদেরও গার্ড হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। একই পরীক্ষাকেন্দ্রে চতুর্থ সেমিস্টার, তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো সিলেবাসের—এই তিন ধরনের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ছিল সংসদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ফলপ্রকাশের পর স্কুলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের হাতে মার্কশিট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সঙ্গীত ও বন্দে মাতরম্ নিয়ে বার্তা
উল্লেখ্য, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি স্কুলেও অনুশাসন ফেরাতে তৎপর নতুন সরকার। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারি স্কুলগুলোকেও জাতীয় সঙ্গীতের পর ‘বন্দে মাতরম্’ প্রার্থনা গাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আজকের কৃতিদের সাফল্যের দিনে সেই আদর্শ ও শিক্ষার প্রসারে সরকারি উদ্যোগ আরও একবার সামনে এলো।