রাস্তায় সরকারি বাস নেই কেন? মমতার আমলের ‘হয়রানি’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল!

রাজ্যের রাজপথে সরকারি বাসের আকাল দীর্ঘদিনের। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পর্যাপ্ত বাসের অভাবে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই আমজনতার। এবার সেই পরিবহন সঙ্কটের জট কাটাতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বড়সড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

হয়রানির দিন কি শেষ?
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্রই সরকারি বাসের সংখ্যা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। বহু রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বেসরকারি বাসের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল। এদিন এই পরিস্থিতির পর্যালোচনায় বসে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের এই হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিকল্পনার অভাবে সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

পরিবেশ ও উন্নয়নের যুগলবন্দি
শুধু বাসের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, মন্ত্রী এদিন বিশেষ জোর দিয়েছেন পরিবেশ সচেতনতার ওপর। তাঁর মতে, যত্রতত্র পুরনো ও ধোঁয়া ছড়ানো বাস নামিয়ে দূষণ বাড়ানো হবে না। পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস (Electric Bus) এবং সিএনজি বাসের ওপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “আমরা এমন এক পরিবহন ব্যবস্থা গড়তে চাই যা একইসঙ্গে সস্তা, সহজলভ্য এবং পরিবেশের জন্য নিরাপদ হবে।”

অগ্নিমিত্রার বড় বার্তা
মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলোতে বাস ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডেবো থেকে বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং পুরনো বাসগুলোকে মেরামত করে রাস্তায় নামানোর জন্য একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করছে দপ্তর। পরিবহন ব্যবস্থার এই ভোলবদল হলে কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী— সকলেই বড়সড় স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এখন দেখার, মন্ত্রীর এই সদিচ্ছা রাজপথের বাস্তব চিত্রকে ঠিক কতটা দ্রুত বদলে দিতে পারে। তবে পরিবহন ক্ষেত্রে এই নতুন সরকারের তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।