আন্দামানে ঢুকে পড়ছে বর্ষা! ১৬ মে থেকেই আবহাওয়া বদলের ইঙ্গিত, বাংলার কপালে কি তবে এবার আগেভাগেই বৃষ্টি?

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে এখন প্যাচপ্যাচে ভ্যাপসা গরম। রোদে বেরোলেই দরদর করে ঘাম, আর নাভিশ্বাস ওঠা পরিস্থিতি। রাজস্থান থেকে উত্তরপ্রদেশ—উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোতে যখন তাপপ্রবাহের লু বইছে, ঠিক তখনই এক স্বস্তির খবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)। আন্দামান সাগরে বর্ষার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাবে বাংলাতেও বৃষ্টির দিনক্ষণ নিয়ে বড় আপডেট এল।

আন্দামানে বর্ষার পদধ্বনি
মৌসম ভবন জানাচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছে। সাধারণত মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আন্দামানে বর্ষা পৌঁছালেও, এবার ১৬ মে থেকেই সেখানে শুরু হতে পারে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এই মেঘপুঞ্জকে টেনে আনতে সাহায্য করছে।

বাংলায় কবে ঢুকবে বর্ষা?
আন্দামানে বর্ষা তাড়াতাড়ি আসা মানেই যে মূল ভূখণ্ডে বা পশ্চিমবঙ্গে আগেভাগেই বৃষ্টি নামবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে আবহাওয়া বিদদের মতে, নিম্নচাপের অবস্থান অনুকূল থাকলে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই কেরলের পাশাপাশি বাংলাতেও বর্ষার প্রবেশের পথ প্রশস্ত হতে পারে। আপাতত ১৪ থেকে ১৯ মে-র মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে তাপপ্রবাহের সতর্কতা
যখন দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন উত্তর ও পশ্চিম ভারত পুড়ছে চরম গরমে। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লিতে আগামী কয়েক দিন তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলেও গরমের দাপট কমার এখনই কোনও সম্ভাবনা নেই।

তবে স্বস্তির কথা এই যে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা শুরু হওয়ায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়বে এবং বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদী এই ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে সাধারণ মানুষকে।