স্মার্টওয়াচের মারাত্মক ভুল, অকালেই চলে গেলেন অভিনেতা দিলীপ রাজ! মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল?

বিনোদন জগতে ফের শোকের কালো ছায়া। বুধবার ভোররাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় চলে গেলেন জনপ্রিয় কন্নড় অভিনেতা তথা প্রযোজক দিলীপ রাজ। কিন্তু ৪৭ বছর বয়সী এই প্রাণোচ্ছল অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু কি এড়ানো যেত? অভিনেতার শেষ মুহূর্তের চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে আসতেই দানা বাঁধছে বিতর্ক। উঠে আসছে এক ভয়ংকর ভুলের কাহিনী।

গ্যাজেটের ভুল তথ্যে বিপত্তি?
একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর ঠিক আগে শারীরিক কিছু উপসর্গ দেখা দিলেও তা উপেক্ষা করেছিলেন দিলীপ। জানা গেছে, গত ১২ মে রাতে তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে নিজের কবজিতে থাকা ‘স্মার্টওয়াচ’-এর ওপর ভরসা করেন। অভিনেতার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, দিলীপ তাঁর স্মার্টওয়াচে চেক করে দেখেন যে তাঁর হৃদস্পন্দন (Heart Rate) স্বাভাবিক দেখাচ্ছে।

স্মার্টওয়াচের রিডিং দেখে তিনি আশ্বস্ত হন এবং ভাবেন হয়তো সামান্য কোনও অস্বস্তি হচ্ছে। কিন্তু সেই ভুল সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াল। পরে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে কুমারাস্বামী লেআউটের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

টেলিভিশন থেকে রুপোলি পর্দা: বর্ণময় কেরিয়ার
দিলীপ রাজ কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, কন্নড় বিনোদন জগতে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০০৫ সালে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ছবির মাধ্যমে তাঁর রুপোলি পর্দায় অভিষেক। এরপর প্রায় ২৫টিরও বেশি ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে সুপারস্টার পুনীত রাজকুমারের সঙ্গে ‘মিলানা’ ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে। ‘ইউ টার্ন’, ‘পঞ্চামৃত’, বা ‘সুগ্রীব’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রতিভা বারবার প্রশংসিত হয়েছে।

রুপোলি পর্দার পাশাপাশি ‘রথসপ্তমী’ বা ‘প্রীতিগাগি’-র মতো জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালের মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সফল প্রযোজক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর প্রযোজনায় ‘কৃষ্ণ রুক্কু’ নামক একটি জনপ্রিয় সিরিয়াল সম্প্রচারিত হচ্ছিল।

শোকাতুর পরিবার ও সহকর্মীরা
বুধবার বিকেলেই প্রয়াত অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে গেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। তবে এই ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় সতর্কতা বার্তা দিয়ে গেল— প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যে কোনও সময় বিপদের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে অস্বস্তি বোধ করলে কোনও গ্যাজেটের ওপর ভরসা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।