পেশায় ফেরা না কি প্রতিবাদের নতুন অস্ত্র? আইনজীবীর পোশাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী!

বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজনীতির ময়দান থেকে সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর এদিন তাঁকে দেখা গেল আইনজীবীর কালো কোট ও ব্যান্ড পরিহিত অবস্থায়। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দলীয় কর্মীদের ওপর হওয়া আক্রমণের বিচার চাইতেই এদিন সশরীরে সওয়াল করতে এজলাসে হাজির হন তিনি।
ঘরছাড়া কর্মীদের জন্য আইনি লড়াই
লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে চরম অশান্তির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, গত কয়েক দিনে দলের ৩৬৫টি পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০০০ সমর্থক সরাসরি হিংসার শিকার হয়েছেন। বহু কর্মী ঘরছাড়া। এই পরিস্থিতি নিয়ে গত ১২ মে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। আজ প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলারই শুনানি ছিল।
সঙ্গে আইনজীবীদের হেভিওয়েট টিম
সকাল থেকেই হাইকোর্ট চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবীরাও। সূত্রের খবর, দলের কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের খতিয়ান এবং ঘরছাড়া মানুষের পুনর্বাসনের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সওয়াল-জবাবে অংশ নিতে পারেন।
নজিরবিহীন এই পদক্ষেপ কেন?
রাজনীতিবিদ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে হলেও, তিনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী। তবে সক্রিয় রাজনীতি এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে দীর্ঘকাল তাঁকে আদালতের ট্রায়ালে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আদালতের পোশাকে লড়াইয়ে নামা আসলে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। এর মাধ্যমে তিনি দলের নিচুতলার কর্মীদের এই আশ্বাস দিতে চাইলেন যে, তাঁদের বিপদে স্বয়ং নেত্রী আইনি কবচ দিতে প্রস্তুত।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আক্রান্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে হাইকোর্ট আজ কী পর্যবেক্ষণ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা। আইনজীবীর পোশাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ কি তবে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় নতুন মোড় আনবে? উত্তর মিলবে শুনানির শেষেই।