বিমলই কি পাহাড়ের শেষ কথা? খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিমল গুরুংয়ের নয়া আখ্যান, চাপে সব পক্ষ!

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এই প্রবাদটিই যেন ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন বিমল গুরুং। এক সময় পাহাড়ের অবিসংবাদিত নেতা, তারপর বনবাস এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন। অনেকে ভেবেছিলেন জিটিএ-র (GTA) ব্যর্থতা এবং ক্রমাগত জনভিত্তি হারানোর পর হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে গুরুং-অধ্যায়। কিন্তু ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের ‘কিং মেকার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার এই সুপ্রিমো।

খাদের কিনারা থেকে রাজকীয় ফেরা

২০১৭-এর আন্দোলনের পর থেকে বিমলের ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবন ছিল টালমাটাল। দীর্ঘকাল আত্মগোপন করে থাকার পর যখন তিনি ফিরেছিলেন, তখন পাহাড়ে তাঁর আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছেন অনীত থাপা কিংবা অজয় এডওয়ার্ডসের মতো তরুণ তুর্কিরা। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের প্রান্তিক ভোটব্যাঙ্ক এবং গোর্খা আবেগকে একজোট করার ক্ষেত্রে বিমল গুরুং এখনও অপরাজেয়। জিটিএ-র প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং জনরোষকে হাতিয়ার করেই তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন।

কেন বিমলই ‘কিং মেকার’?

পাহাড়ের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে দেখা যাচ্ছে, কোনো একটি দল এককভাবে শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। সেখানে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা যে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। পাহাড়ের আদি বাসিন্দাদের আবেগ এবং গোর্খাল্যান্ডের অমলিন স্বপ্নকে তিনি যেভাবে ফের জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন, তাতে বাধ্য হয়েই বড় দলগুলিকে এখন গুরুংয়ের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে।

জিটিএ-র ব্যর্থতা এবং বিমলের সুযোগ

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) পাহাড়ের মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ। উন্নয়ন থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান—সবক্ষেত্রেই পাহাড়বাসী বঞ্চনার শিকার। এই ‘প্রশাসনিক শূন্যতা’কেই নিজের হাতিয়ার করেছেন গুরুং। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনিক পদের চেয়েও পাহাড়ের মানুষের হৃদয়ে থাকা বেশি জরুরি।

নজরে আগামী নির্বাচন

বিমল গুরুংয়ের এই নয়া আখ্যান শুধু পাহাড়েই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গের সমতলের রাজনীতিতেও। শিলিগুড়ি করিডোর থেকে শুরু করে লোকসভা ও বিধানসভা আসনগুলোর ভাগ্য অনেক ক্ষেত্রেই এখন নির্ভর করছে গুরুংয়ের সমর্থনের ওপর।

পাহাড়ের কুয়াশা সরিয়ে রোদ কতটা চড়বে, তা বলবে সময়। তবে আপাতত এটুকু নিশ্চিত যে, পাহাড়ের দাবার বোর্ডে এই মুহূর্তে ‘লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডিং’ বিমল গুরুং-ই। ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায় পাহাড়ের রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে নজর রাখুন।