সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে সাতসকালে হাসপাতালের দৌড়! কেমন আছেন কংগ্রেস নেত্রী?

সাতসকালে হঠাৎই হাসপাতালের পথে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বুধবার (১৩ই মে) সকালে তাঁকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৯ বছর বয়সেও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় থাকলেও, বারংবার তাঁর শরীরের অবনতি ভাবিয়ে তুলছে চিকিৎসকদের।

চার ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা
হাসপাতাল সূত্রে খবর, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (রুটিন চেকআপ) জন্যই এদিন মেদান্তায় গিয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। প্রায় চার ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসকরা তাঁকে ছাড়পত্র দেন। এরপর ছেলে রাহুল গান্ধী ও মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লির বাসভবনে ফিরে যান তিনি।

পাঁচ মাসে তিনবার হাসপাতালে
চলতি বছর সোনিয়া গান্ধীর স্বাস্থ্য নিয়ে বারবারই আশঙ্কার খবর সামনে এসেছে।

জানুয়ারি: শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

২৪শে মার্চ: পেটে গুরুতর সংক্রমণের কারণে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

১৩ই মে: আজ মেদান্তায় রুটিন চেকআপের জন্য গেলেন।

দীর্ঘদিন ধরেই সোনিয়া গান্ধী পেট, ফুসফুস এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। মাঝেমধ্যেই তাঁকে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম বা শিমলার ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়।

অসুস্থতা তুচ্ছ করে রাজনীতিতে সক্রিয়
বয়স হয়েছে ৭৯ বছর, শরীরও দিচ্ছে না সঙ্গ— তবুও রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি এই লড়াকু নেত্রী। বর্তমানে তিনি রাজস্থান থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কংগ্রেসের ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘ সময় (টানা ২২ বছর) সভাপতির পদ সামলেছেন তিনি।

১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সোনিয়া। তবে দলের স্বার্থে ১৯৯৭ সালে ফের রাজনীতিতে পা রাখেন এবং ১৯৯৮ সালে সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমানে সরাসরি শীর্ষ পদে না থাকলেও, কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকাই মুখ্য।

আপাতত চিকিৎসকরা তাঁকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। সোনিয়া গান্ধীর সুস্থতা কামনায় দেশজুড়ে প্রার্থনা করছেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা।