ঘুমানোর আগে জল পান কি শরীরের জন্য কাল? জেনে নিন বিপদ এড়ানোর সঠিক মাপ!

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জল পানের কোনো বিকল্প নেই। তবে দিনের বেলা জল পানের নিয়ম আর রাতের নিয়ম কিন্তু এক নয়। ঘুমানোর আগে জল বা অন্য কোনো পানীয় গ্রহণ করা নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। কেউ মনে করেন এটি শরীরের জন্য ভালো, আবার কারো মতে এটি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আসলে বিষয়টি নির্ভর করে আপনি ঠিক কতটা এবং কী ধরনের পানীয় পান করছেন তার ওপর।
রাতের পানীয়ে কতটুকু সতর্কতা প্রয়োজন?
শরীরকে হাইড্রেটেড বা সতেজ রাখা জরুরি ঠিকই, কিন্তু অসময়ে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত জল, চা বা কফি পানের অভ্যাস থাকলে আপনার ঘুমের গুণমান নষ্ট হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং বয়স ভেদে এর প্রভাব একেক জনের ওপর একেক রকম হয়।
কতটা জল পান করা সঠিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ১০০ থেকে ২০০ মিলি বা সর্বোচ্চ এক গ্লাস জল পান করা যথেষ্ট। এই সামান্য পরিমাণ জল শরীরকে সতেজ রাখে এবং মাঝরাতে বারবার প্রস্রাবের চাপে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয়ও থাকে না। তবে আপনি যদি সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করে থাকেন, তবে রাতে আলাদা করে বেশি জল খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
অতিরিক্ত জল পানের কুফল
রাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল বা তরল পান করলে ‘নকচুরিয়া’ বা বারবার প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার ফলে পরের দিন সকালে শরীরে ক্লান্তিভাব, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি বা ভারি ভাবও হতে পারে।
কাদের বেশি সাবধান হতে হবে?
সবাইকে এক নিয়মে চললে চলবে না। বিশেষ করে যাদের কিডনি, হার্ট বা মূত্রাশয়ের সমস্যা রয়েছে, তাদের ঘুমানোর আগে জল পানের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী বা যাদের প্রোস্টেটের সমস্যা আছে, তাদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাতের জল পানের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
মনে রাখবেন, সুস্থ ঘুমের ওপরই নির্ভর করে আপনার পরের দিনের কর্মক্ষমতা। তাই শরীর বুঝে নিয়ম মেনে জল পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।