দিনে ২,২০০ কোটির সোনা কেনে ভারত! কোথায় যাচ্ছে এত সম্পদ? চমকে দেবে এই রিপোর্ট

ভারতীয়দের সোনার প্রতি টান নতুন কিছু নয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রতিদিন কত টাকার সোনা পকেটে পুরছে এ দেশ? সম্প্রতি ‘ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল’ (WGC)-এর একটি রিপোর্টে এমন এক তথ্য সামনে এসেছে যা শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২.২ টন বা ২,২০০ কিলোগ্রাম সোনা কেনা হয়। আর্থিক মূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ২,২০০ কোটি টাকা। বছরে ভারত প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টন সোনা ব্যবহার করে, যার সিংহভাগই ব্যয় হয় বিয়েবাড়ি এবং উৎসবের মরসুমে।
আমদানিতে ভারত কোথায় দাঁড়িয়ে?
ভারতের অভ্যন্তরীণ সোনার খনিগুলো থেকে চাহিদার তুলনায় নগণ্য পরিমাণ সোনা উৎপাদন হয়। ফলে প্রতি বছর প্রয়োজনীয় সোনার প্রায় ৯৯ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
সুইজারল্যান্ড: ভারতের মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এই দেশ থেকে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE): ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ১৬ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে তারা।
অন্যান্য: দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পেরু থেকেও বিপুল পরিমাণ সোনা ভারতে আসে।
দক্ষিণ ভারতের দাপট ও গয়নার নেশা
ভারতে মোট বিক্রীত সোনার প্রায় ৭৫ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গয়না হিসেবে। বাকি অংশ মানুষ মুদ্রা বা বার হিসেবে বিনিয়োগ করেন। ভৌগোলিক বিচারে সোনা কেনায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো, বিশেষ করে কেরালা এবং তামিলনাড়ু। এই দুই রাজ্যে সোনা কেবল অলঙ্কার নয়, বরং আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সরকারের কড়া পদক্ষেপ ও বাজারদর
অতিরিক্ত সোনা আমদানির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ছে এবং বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। এই সংকট সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা কমানোর আবেদন জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকার সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় বাজারে সোনার দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক বাড়লে আমদানিতে কিছুটা লাগাম টানা গেলেও, ভারতীয়দের সোনার প্রতি যে চিরকালীন আবেগ ও চাহিদা রয়েছে, তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া প্রায় অসম্ভব।