ট্রাম্পকে ধোঁকা দিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ছে পাকিস্তান? নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এক অবিশ্বাস্য মোড়। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করার গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের কাঁধে, তখনই পর্দার আড়ালে তৈরি হচ্ছিল অন্য এক সমীকরণ। পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী চাল এখন প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন রিপোর্ট এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বয়ান থেকে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান কেবল মধ্যস্থতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের সঙ্গে একটি বড় মাপের প্রতিরক্ষা চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একাধিপত্য খর্ব করতেই এই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের পরিকল্পনা।

আমেরিকাকে যেভাবে বোকা বানাল পাকিস্তান

সিবিএস নিউজের একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে সময় পাকিস্তান আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরানোর কথা বলছিল, ঠিক সেই সময় তারা নিজেদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের যুদ্ধবিমান লুকিয়ে রেখেছিল। স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে যে, ইসরায়েল ও আমেরিকার সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচাতে ইরান তাদের বিমানগুলো পাকিস্তানের আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও পাকিস্তান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

ইসলামিক ন্যাটোর নেপথ্যে আসল লক্ষ্য কী?

পাকিস্তানের এই কৌশলের পেছনে তিনটি প্রধান দিক উঠে আসছে:

নিরাপত্তা বলয়: কাতার, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে পাকিস্তান একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ে তুলতে চাইছে। মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান এই গোপন বৈঠকগুলোকে ইরান-মার্কিন আলোচনার আবরণ দিয়ে ঢেকে রেখেছিল।

ইরানের জন্য বিশেষ সুবিধা: গোয়াদার বন্দর ব্যবহারের জন্য পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তি সই হয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার কড়া নজরদারি এড়িয়ে ইরান অনায়াসেই পণ্য রফতানি করতে পারবে। এটি সরাসরি ওয়াশিংটনের গালে একটি বড় চড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পারমাণবিক সুরক্ষা ও অর্থ: ২০২৫ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবকে পারমাণবিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে পাকিস্তান। এর বিনিময়ে ঋণে জর্জরিত পাকিস্তান প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন প্রয়োজন এই জোট?

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন থানির মতে, ইসরায়েল যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে চাইছে, তা রুখতে একটি শক্তিশালী ইসলামিক জোটের বিকল্প নেই। তবে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র আমেরিকার জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের এই ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।