বিজেপি নেতাকে পিষে দিল ঘাতক স্করপিও! দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত খুন? বিজেপি মন্ডল সভাপতির মৃত্যুতে তোলপাড় দামোহ

মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় বিজেপির প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি দেবেন্দ্র ঠাকুরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সাধারণ পথ দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ এখন ‘পরিকল্পিত খুনের’ দিকেই ইঙ্গিত করছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়?
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে দামোহ-সাগর রাজ্য মহাসড়কের মাদিয়াহার নার্সারির সামনে এই ভয়াবহ কাণ্ডটি ঘটে। জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ঠাকুর নিজের বাইকে চড়ে গ্রামে ফিরছিলেন। সেই সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের স্করপিও গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ধাক্কা মারার পর গাড়িটি থামেনি, বরং চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে আহত দেবেন্দ্রকে পিষে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
দুর্ঘটনা না কি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড?
দেবেন্দ্র ঠাকুর এলাকায় প্রভাবশালী নেতা এবং স্থানীয় বিধায়ক জয়ন্ত মালবিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের দাবি, যেভাবে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়, বরং সচেতনভাবে চালক ঘুরিয়ে নিয়ে এসে তাঁকে পিষে দিয়েছে, তা সাধারণ দুর্ঘটনা হতে পারে না। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা রক্ত আর দেহের ক্ষতচিহ্ন দেখে অনেকেই একে ‘সুপারি কিলিং’ বা পরিকল্পিত হত্যা বলে সন্দেহ করছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দামোহ-র এসপি আনন্দ কালাদগি স্বয়ং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশি তল্লাশিতে সাগর রোড বাইপাসের কাছে একটি নতুন বাসস্ট্যান্ডের পাশ থেকে ঘাতক স্করপিও গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত চালক ও গাড়ির আরোহীরা এখনও পলাতক। পুলিশ মামলার শিকড় খুঁজতে ফরেনসিক ল্যাবরেটরি (FSL) টিমকেও তলব করেছে।
শোকের ছায়া ও বিচার দাবি
এই মর্মান্তিক খবরে দামোহ জেলা বিজেপি শিবিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়েই জেলা সভাপতি শ্যাম শিবহারে, সিদ্ধার্থ মালাইয়া এবং বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাজপুত ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের সদস্যরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবিলম্বে অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত এসপি এসএস ভাদৌরিয়া জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত সবকটি দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।