পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়তে পারে দেশে? RBI-গভর্নরের সতর্কবার্তায় তুঙ্গে জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতীয়দের হেঁশেলে ও পকেটে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দেশে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি এড়ানো কঠিন হবে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। মঙ্গলবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি যৌথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে শঙ্কা: আরবিআই গভর্নর জানান, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার আবগারি শুল্ক কমিয়ে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো লোকসান সয়ে খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সরকার কতদিন এই চাপ সহ্য করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সঞ্জয় মালহোত্রার কথায়, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরকার শেষ পর্যন্ত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ভার সাধারণ মানুষের উপর কিছুটা হলেও চাপাতে বাধ্য হতে পারে।”

মোদীর ‘মিতব্যয়ী’ হওয়ার আহ্বান: দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে স্বেচ্ছায় মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের ওপর চাপ কমাতে তিনি পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহার কমানো এবং আপাতত সোনা কেনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই লক্ষ্যেই সরকার ইতিমধ্যে সোনার আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর পণ্যের চাহিদা কমাতে আগামী দিনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

মূল্যস্ফীতির রক্তচক্ষু: সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল মাসে খুচরো মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৪৮ শতাংশ হয়েছে। যদিও সরকার তেলের দামের বোঝা আংশিক বহন করায় তা নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এই স্বস্তি কেড়ে নিতে পারে। গভর্নর মালহোত্রা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র নমনীয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো যথেষ্ট নয়, আর্থিক ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

নজরে ৫ জুনের বৈঠক: আরবিআই চলতি অর্থবর্ষে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৪.৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও এপ্রিলের বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল, কিন্তু ৫ জুনের পরবর্তী মুদ্রানীতি বৈঠকে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক নতুন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সাধারণ মানুষ।