NEET প্রশ্ন ফাঁসের পর্দাফাঁস! ১৫ লাখে বিক্রি, ভোল বদলে মন্দিরে পালানোর ছক কষলেও শেষ রক্ষা হলো না

দেশজুড়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ২২ লক্ষ পড়ুয়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে এবার মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম শুভম খৈরনার। পেশায় তিনি নিজেও ভোপালের একজন মেডিক্যাল সায়েন্সের ছাত্র। কিন্তু তদন্তে উঠে আসা তথ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে দুঁদে গোয়েন্দাদেরও।
ছদ্মবেশেও শেষ রক্ষা হলো না:
রাজস্থান পুলিশের দেওয়া গোপন সূত্রের ভিত্তিতে নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইন্দিরা নগর এলাকা থেকে শুভমকে পাকড়াও করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নিজের চুল কেটে সম্পূর্ণ ভোল বদলে ফেলেছিলেন ওই যুবক। এমনকি ধরা পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পুরনো ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার মিল খুঁজে বের করে পুলিশ তাঁকে শনাক্ত করে এবং হাতকড়া পরায়।
প্রশ্নপত্রের আকাশছোঁয়া দর:
তদন্তে জানা গেছে, এই দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে রয়েছে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে। অভিযোগ, পুনের এক ছাত্রের কাছ থেকে টেলিগ্রাম মারফত নিট-এর প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি সংগ্রহ করেছিলেন শুভম। প্রায় ১০ লক্ষ টাকায় সেই প্রশ্নপত্র কিনে তিনি হরিয়ানার এক ব্যক্তির কাছে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন। অর্থাৎ এক রাতেই ৫ লক্ষ টাকা লাভের আশায় লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
৫ রাজ্যে জালিয়াতি, তদন্তে নামছে সিবিআই:
কেবল মহারাষ্ট্র নয়, এই চক্রের শিকড় পৌঁছে গেছে রাজস্থান, হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশ সহ আরও একাধিক রাজ্যে। এখনও পর্যন্ত ৫টি রাজ্য থেকে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে অন্তত ৪৫ জনকে। এই পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড মণীশ যাদব বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দিয়েছে।
পরীক্ষা বাতিল ও অনিশ্চয়তা:
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ‘গেস পেপার’-এর হুবহু মিল মেলায় প্রাথমিক তদন্তেই জালিয়াতির প্রমাণ পায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এরপরই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনটিএ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
একদিকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্তদের পাকড়াওয়ের সাফল্য, অন্যদিকে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে দিশেহারা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক। ডাক্তার হওয়ার দৌঁড়ে এক অসাধু চক্রের লালসায় যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হলো, তার দায় কে নেবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে সারা দেশে।