অসম্ভবকে সম্ভব করলেন কৃষক! একটি আম গাছেই ফলছে ১৪ রকমের আম, চিনে নিন সেই জাদুকরী পদ্ধতি

কেসর, আলফোনসো, ল্যাংড়া নাকি আম্রপালি? বাজার করতে গিয়ে সেরা আমটি বেছে নিতে গিয়ে দ্বন্দ্বে পড়েন অনেকেই। কিন্তু কেমন হতো যদি বাড়ির একটি মাত্র গাছেই ফলত এই সবকটি প্রজাতির আম? শুনতে গল্পের মতো মনে হলেও, গুজরাটের এক কৃষক এই অসম্ভবকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। আমরেলি জেলার ডিটালা গ্রামের বাসিন্দা উকাভাই ভাট্টি তাঁর বাগানের একটি গাছে ফলিয়ে দেখাচ্ছেন ১৪ প্রজাতির আম।
ধৈর্য ও বিজ্ঞানের মিশেলে ‘ম্যাঙ্গো ম্যাজিক’:
পেশায় কৃষক উকাভাইয়ের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ ২৫ বছরের সাধনা এবং ‘গ্র্যাফটিং’ বা কলম পদ্ধতির নিখুঁত প্রয়োগ। প্রায় আড়াই দশক আগে নিজের বাড়ির আঙিনায় একটি দেশি আম গাছ পুঁতেছিলেন তিনি। সেই সাধারণ গাছটিই আজ বিরল প্রজাতির এক সংগ্রহশালা। উকাভাই জানান, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তিনি দুর্লভ সব আমের ডাল সংগ্রহ করে আনেন। এরপর অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সেগুলিকে মূল গাছের ডালে কলম করেন।
এক গাছে কোন কোন আম?
তাঁর এই একটি গাছেই এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে কেসর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, বদামি, গুলাবি, রসবাড়ি, জামাদার এবং জগদ্বিখ্যাত আলফোনসো (হাপুস)। তালিকায় এখানেই শেষ নয়; রয়েছে রাজস্থানের প্রায় বিলুপ্ত ‘কালো জামাদার’, বলসাড়ের নীলম, সিন্ধুরিয়ো, তোতাপুরি এবং দশেরি। প্রতিটি আমের স্বাদ, গন্ধ এবং আকার সম্পূর্ণ আলাদা।
কেন এই উদ্যোগ?
শুধুমাত্র শখের বশে নয়, উকাভাইয়ের এই কাজের লক্ষ্য অনেক গভীরে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “নবাবদের আমলে ভারতে প্রায় ২০০ ধরনের আম ছিল। আজ অধিকাংশ প্রজাতিই বিলুপ্তির পথে। কেবল ব্যবসায়িক লাভের জন্য কেসর বা আলফোনসোর মতো কয়েকটি প্রজাতিই এখন বাজারে টেকে। আমি চেয়েছি সেই হারিয়ে যাওয়া স্বাদগুলোকে নতুন প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে।”
কী এই গ্র্যাফটিং পদ্ধতি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বৈজ্ঞানিক কৌশল। মূল গাছের ডাল কেটে ভি-আকৃতির খাঁজ তৈরি করে সেখানে নতুন প্রজাতির ডাল বসিয়ে দেওয়া হয়। দু’টি ডালের বাকলের নিচের সবুজ অংশ (ক্যাম্বিয়াম স্তর) মিলিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিলে কয়েক সপ্তাহেই তা জোড়া লেগে যায়। তালালার ‘ম্যাঙ্গো এক্সেলেন্স সেন্টার’-এর আধিকারিক বিজয়সিংহ বরাড় জানান, এই ‘খুটা গ্র্যাফটিং’ পদ্ধতিতে একটি গাছে ১০০টি পর্যন্ত প্রজাতি ফলানো সম্ভব।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মালিহাবাদের কালিমুল্লাহ খান বা ‘ম্যাঙ্গো ম্যান’ যেখানে একটি গাছে ৩৫০ প্রজাতির আম ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন, সেখানে গুজরাটের উকাভাই ভাট্টির এই প্রচেষ্টা ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। অল্প জমিতে কীভাবে জিন-বৈচিত্র্য রক্ষা করে লাভবান হওয়া যায়, ডিটালা গ্রামের এই আম গাছটি এখন তারই উজ্জ্বল নিদর্শন।