৩৫,০০০ কিমি পাল্লা, নিমেষে ধ্বংস হবে যে কোনও দেশ! পুতিনের হাতে এল বিশ্বের ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর’ পরমাণু মিসাইল

যুদ্ধের আবহে এবার বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে আসছে রাশিয়ার নতুন ‘সুপার মিসাইল’ সারমাত (Sarmat)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের সফল পরীক্ষার পর একে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মিসাইল রাশিয়ার কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক অপ্রতিরোধ্য ঢাল।

মার্কিন চুক্তির পাল্টা জবাব!
পুতিনের মতে, এই ঘাতক অস্ত্র তৈরির মূলে রয়েছে আমেরিকার একতরফা সিদ্ধান্ত। ২০০২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল (ABM) চুক্তি থেকে সরে আসে, তখন রাশিয়া নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে ‘বাধ্য’ হয়েছিল। এরপরই শুরু হয় এমন এক প্রযুক্তির উদ্ভাবন, যার কোনও সমকক্ষ বর্তমান বিশ্বে নেই। এই মিসাইল বর্তমান বা ভবিষ্যতের যে কোনও মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে এক নিমেষে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

কেন সারমাতকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর’?
এই মিসাইলের ক্ষমতা শুনে সামরিক বিশেষজ্ঞদেরও কপালে ভাঁজ পড়েছে। পুতিন দাবি করেছেন:

বিশাল পাল্লা: এটি কেবল সাধারণ ব্যালিস্টিক পথেই নয়, সাব-অরবিটাল পথেও চলতে পারে। এর ফলে এর রেঞ্জ বা পাল্লা ৩৫,০০০ কিলোমিটারের বেশি বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিখুঁত হামলা চালাতে এটি সক্ষম।

অতুলনীয় ধ্বংসক্ষমতা: পুতিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর পেলোডের ক্ষমতা যে কোনও পশ্চিমা মিসাইলের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

অভেদ্য প্রযুক্তি: বর্তমান বিশ্বে এমন কোনও মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম নেই যা একে মাঝপথে রুখতে পারে।

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত পুতিনের ‘কালভৈরব’
রুশ প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, এই বছরের শেষ নাগাদ ‘সারমাত’ মিসাইল সিস্টেমকে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে রাখা হবে। এছাড়াও রাশিয়ার অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়েছে অ্যাভানগার্ড হাইপারসনিক মিসাইল, কিনঝাল হাইপারসনিক মিসাইল এবং পোসাইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোনের মতো মারণাস্ত্র। এমনকি ক্ষুদ্র পারমাণবিক ইউনিটে চালিত ‘বুরেভেস্টনিক’ ক্রুজ মিসাইলের কাজও প্রায় শেষের দিকে।

এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য রাশিয়ার বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রতিরক্ষা কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন পুতিন। ২০১৮ সালে প্রথমবার এই মিসাইলের কথা প্রকাশ্যে এনেছিল ক্রেমলিন। এখন তা মোতায়েনের পথে আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব এবং আতঙ্ক— দুই-ই যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।