মোদীকে অনুসরণ শুভেন্দুর! বিধানসভার সিঁড়িতে নতজানু মুখ্যমন্ত্রী, নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বাংলা

ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেখা গিয়েছিল জনতার আশীর্বাদ নিতে নতজানু হতে। আজ সেই একই ছবি ধরা পড়ল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অলিন্দে। বাংলার মসনদে বসার পর প্রথমবার বিধানসভায় পা রেখেই সিঁড়িতে নতজানু হয়ে প্রণাম করলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণতন্ত্রের মন্দিরে তাঁর এই ভক্তিপূর্ণ প্রবেশ ঘিরে ইতিমধ্য়েই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বুধবার থেকে রাজ্য বিধানসভায় শুরু হয়েছে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। আগামীকালও এই প্রক্রিয়া চলবে। তবে আজকের দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভায় রাজকীয় প্রবেশ ও শ্রদ্ধার্ঘ্য:
সকাল থেকেই বিধানসভা চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিছানো হয়েছিল লাল কার্পেট। গাড়ি থেকে নামার পর তাঁকে প্রথা মেনে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। তবে প্রোটোকলের ঘেরাটোপে আটকে না থেকে তিনি প্রথমেই এগিয়ে যান সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে। সেখানে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিধানসভার মূল ভবনের সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন তিনি। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই মোদীর সংসদ ভবনে প্রথম প্রবেশের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

শাঁখ বাজিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা:
শুধুমাত্র সিঁড়িতে প্রণাম করাই নয়, নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরে ঢোকার পর রীতিমতো শাস্ত্রীয় মতে পুজো করেন মুখ্যমন্ত্রী। শাঁখ বাজিয়ে এবং ঘণ্টাধ্বনি করে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে নিজের কার্যভার সামলানোর প্রস্তুতি নেন তিনি।

এদিন বিধানসভা চত্বরে ছিল উৎসবের মেজাজ। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে অনেককেই মিষ্টি হাতে মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্যাকেট ভর্তি মিষ্টি নিয়ে আসতে। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি আগের সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে নতুন সরকারের স্বচ্ছতার পক্ষে সওয়াল করেন। সব মিলিয়ে, এক নতুন রাজনৈতিক আবহের মধ্যে দিয়ে আজ থেকে পথ চলা শুরু করল বাংলার নতুন বিধানসভা।