১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি সফর! পকেটে টান পড়তে চলেছে NBSTC-র?

আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে নব্য সরকার। সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সরকারের এই ‘উপহার’ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (NBSTC) কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এমনিতেই লোকসানে চলা এই নিগমের ওপর নতুন করে আর্থিক বোঝা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
বিপাকে এনবিএসটিসি (NBSTC): নিগম সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই মহিলা যাত্রী। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার মহিলা এই পরিষেবা ব্যবহার করেন। এসি বা রকেটের মতো স্পেশাল সার্ভিস বাদ দিলেও সাধারণ বাসে মহিলা যাত্রীর সংখ্যা দৈনিক অন্তত ৩৫ হাজার। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীর ভাড়া মকুব বা ছাড় দেওয়া হলে নিগমের আয় যে তলানিতে ঠেকবে, তা বলাই বাহুল্য।
আর্থিক সংকটের নেপথ্যে: এনবিএসটিসি-র আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ২০১৮ সালের এপ্রিলের পর রাজ্যে নতুন করে বাস ভাড়া বাড়েনি। সেই সময় লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ৬৮ টাকা, যা বর্তমানে ৯২ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
-
আয়-ব্যয়: ২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে নিগমের আয় হয়েছে প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা।
-
খরচ: এই আয়ের সিংহভাগই চলে যায় জ্বালানি ও বাসের রক্ষণাবেক্ষণ খরচে।
-
ভর্তুকি: বর্তমানে কর্মীদের বেতনের ৯০ শতাংশ এবং পেনশনের ১০০ শতাংশ টাকাই রাজ্য সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেয়।
একমাত্র ভরসা সরকারি ভর্তুকি: নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই এ প্রসঙ্গে বলেন, “সরকার মহিলাদের ভাড়া ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে ঠিকই, তবে এখনও পর্যন্ত অফিসিয়াল নোটিফিকেশন আসেনি। বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করা হবে।” আধিকারিকদের মতে, যদি সরকার এই ভাড়া ছাড়ের বিপরীতে আলাদা করে ভর্তুকি না দেয়, তবে নিগমের অস্তিত্ব রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
এখন দেখার, ১ জুন থেকে এই প্রকল্প চালু হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য বাস পরিষেবা কতটা মসৃণ থাকে এবং সরকার নিগমকে এই আর্থিক ধাক্কা থেকে বাঁচাতে কী পদক্ষেপ নেয়।