খুলবে পুরনো ফাইল, জালে পড়বে খুনিরা? ২০২১-এর হিংসা নিয়ে পুলিশের জন্য এল বিস্ফোরক নির্দেশ

১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্ন থেকে রাজ্য পুলিশের জন্য জারি হলো একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা। মালখানার অস্ত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে পুরনো হিংসার মামলা পুনরায় খোলা—একইসাথে একাধিক ফ্রন্টে অভিযানে নামছে প্রশাসন।

অস্ত্র উদ্ধারে কড়া সময়সীমা
নবান্নের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি থানার মালখানায় থাকা বাজেয়াপ্ত অস্ত্র ও গুলির সঠিক হিসেব মেলাতে হবে আগামী ১৫ মে-র মধ্যে। ওসি এবং আইসি-দের ব্যক্তিগতভাবে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ১৬ মে থেকে এসডিপিও (SDPO) এবং ডিএসপি (DSP) পদমর্যাদার আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে আগামী দুই সপ্তাহ বিশেষ অভিযান চলবে, যার রিপোর্ট প্রতিদিন পাঠাতে হবে সিআইডি-র এডিজি-কে।

নজরে একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা
নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলাগুলোর পুনর্বিবেচনা। নবান্ন সূত্রে খবর, যে সমস্ত মামলায় ইতিপূর্বে চূড়ান্ত রিপোর্ট (Final Report) জমা দিয়ে তদন্ত বন্ধ করা হয়েছিল, সেগুলো ফের খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনো তদন্তে গাফিলতি পাওয়া যায়, তবে সেই মামলা পুনরায় খুলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এফআইআর (FIR) নেওয়া হয়নি, সেখানে তথ্যপ্রমাণ মিললে নতুন করে মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সীমান্তে নজরদারি ও বিএসএফ-কে সহযোগিতা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসএফ-কে জমি দিতে পিছপা হবে না তাঁর সরকার। সেই পথেই হেঁটে এবার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ ও পুলিশের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের তথ্য আদান-প্রদানে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে থানা স্তরে এবং তিন মাস অন্তর এসডিপিও স্তরে এই বৈঠক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বন্ধ হবে দাদাগিরি ও অবৈধ কারবার
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে নয়া সরকার। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যে আর কোনো অবৈধ গরুর হাট বা বেআইনি খনন বরদাস্ত করা হবে না। বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো রাজনৈতিক দাদাগিরি বা তোলাবাজি চললে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই পুলিশ প্রশাসনের রাশ যেভাবে নিজের হাতে টেনে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তাতে অপরাধীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।