‘ভাড়া করা বুদ্ধি’ দিয়ে চলবে না দেশ! AI নিয়ে গৌতম আদানির মাস্টারপ্ল্যান কি বদলে দেবে ভারতের ভাগ্য?

বর্তমান বিশ্বে যার হাতে ডেটা এবং এনার্জি থাকবে, সেই দেশই বিশ্ব শাসন করবে। সোমবার সিআইআই (CII) বার্ষিক বিজনেস সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই এক বিস্ফোরক ও দূরদর্শী বার্তা দিলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। তাঁর মতে, সেমিকন্ডাক্টর এখন কেবল যন্ত্রাংশ নয়, বরং শাসনের হাতিয়ার। আর ক্লাউডকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘অস্ত্র’ হিসেবে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের নিজের ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ভবিষ্যৎ’ অন্যের কাছে ভাড়া করা উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এআই (AI) কি কেবল সফটওয়্যার?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে দুনিয়াজুড়ে যে উন্মাদনা চলছে, তার এক ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন আদানি। তিনি বলেন, “এআই কেবল সফটওয়্যার নয়; এটি হলো জ্বালানি, ডেটা সেন্টার, চিপ, নেটওয়ার্ক এবং মেধা। ভারত যদি তার ডেটা বিদেশে প্রসেস করতে পাঠায়, তবে তার অর্থ হলো ভারতের ভবিষ্যৎ বিদেশের মাটিতে লেখা হচ্ছে।” তিনি আহ্বান জানান যে, এআই অবকাঠামোর মালিকানা, পরিচালনা এবং নির্মাণ— সবটাই দেশীয়ভাবে হওয়া উচিত।

চাকরি কি চলে যাবে?
এআই এলে গণহারে চাকরি যাবে— এই বহুল প্রচলিত ধারণাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন গৌতম আদানি। তাঁর দাবি, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার যোগ্য করে তুলবে। তিনি ইউপিআই (UPI) বিপ্লবের উদাহরণ টেনে বলেন, যেভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট পেটিএম বা জোম্যাটোর মতো কোম্পানি তৈরি করেছে, এআই তার চেয়েও বড় মাপের কর্মসংস্থান ও সুযোগ তৈরি করবে।

আদানির ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাজি
নিজের রূপরেখা বাস্তবায়নে আদানি গ্রুপ বিশাল বিনিয়োগের পথে হাঁটছে। আদানি জানান, জ্বালানি রূপান্তর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোতে তাঁদের গ্রুপ মোট ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। গুজরাটের খাওদাতে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য শক্তি কেন্দ্র, যার ৩৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। এছাড়াও বিশাখাপত্তনমে গুগলের সাথে অংশীদারিত্বে বিশাল ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস তৈরি করছে তাঁর গ্রুপ। মাইক্রোসফট এবং ফ্লিপকার্টের মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলোও এই কর্মযজ্ঞে তাঁদের সাথে হাত মিলিয়েছে।

দেশীয় শক্তির তিন স্তম্ভ
আদানি এআই-এর উন্নতির জন্য তিনটি স্তরের কথা বলেছেন— শক্তি উৎপাদন, কম্পিউট পরিকাঠামো এবং অ্যাপ্লিকেশন। তিনি মনে করেন, ভারত ইতিমধ্যেই ৫০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে, যা এআই অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, “এআই-এর আসল পরিমাপ হবে না এটি কতগুলি চাকরি কেড়ে নিল, বরং এটি কতজন ভারতীয়কে শক্তিশালী করল।”