মেয়েদের অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা! বিজেপির ‘যুবশক্তি’ কার্ডে আর কী কী চমক? জানলে চমকে যাবেন!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে ‘প্রকল্পের লড়াই’। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে এবার বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের প্রস্তাবিত ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে বর্তমানে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রকল্পে বেকার মেয়েদের জন্য আলাদা করে কী কী সুবিধা থাকছে, তা নিয়েই এখন তুঙ্গে জল্পনা।
মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা, বয়সেও বড় ছাড়
বিজেপির এই ‘যুবশক্তি কার্ড’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। বর্তমানে রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে বেকার যুবকরা মাসে ১,৫০০ টাকা করে পান। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে এই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ করে মাসে ৩,০০০ টাকা করা হবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রাজ্যের যেকোনো বেকার যুবক বা যুবতী এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন, যতক্ষণ না তারা স্থায়ী কোনো চাকরি পাচ্ছেন।
স্বনির্ভর হতে ১০ লক্ষ টাকার লোন
শুধুমাত্র মাসিক ভাতা দিয়েই দায় সারতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে বিজেপি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্টার্টআপ ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ যুবক-যুবতীকে এই ঋণের সুবিধা দেওয়া, যাতে তারা ছোট শিল্প বা ব্যবসা শুরু করতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোন এবং ভাতার এই দ্বিমুখী সুবিধা তরুণীদের ভোট টানতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
নিয়োগ দুর্নীতি রুখতে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি
বিজেপি তাদের ইস্তাহারে জানিয়েছে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তারা নিয়মিত এসএসসি (SSC) ও টেট (TET) পরীক্ষা আয়োজন করবে। শুধু তাই নয়, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ৫ বছরের ছাড় দেওয়ারও ঘোষণা করা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থী মেয়েদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি মহিলাদের জন্য আলাদা করে ‘মাতৃশক্তি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বিজেপির, যেখানে মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছে।
রাজনীতির লড়াই ও বাস্তবতা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সামাজিক প্রকল্পগুলো তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। সেই দুর্গে ফাটল ধরাতেই বিজেপি এবার ‘যুবশক্তি’ ও ‘মাতৃশক্তি’ কার্ডকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
যদিও বিরোধীদের দাবি, ভোট আসতেই বড় বড় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি সাজিয়েছে বিজেপি। তবে বাস্তবে এই প্রকল্পগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শাসক দল। পাল্টা জবাবে বিজেপি দাবি করেছে, তাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের মেধাশক্তি আর ভিনরাজ্যে যাবে না এবং বেকারত্ব ঘুচবে।
আপাতত সরকারি স্তরে কোনো নীতিগত ঘোষণা না হলেও, ‘যুবশক্তি কার্ড’ ঘিরে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে কৌতূহল যে চরমে, তা বলাই বাহুল্য। ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ‘কার্ড’ রাজনীতির ফলাফল কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।