“প্রতিদিন ১৭০০ কোটির লোকসান!”-হরমুজ প্রণালী বন্ধ হতেই মোদীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’, নয়া প্ল্যান বি!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে এসেছে জ্বালানি সঙ্কট। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে একাধিক দেশ। ভারতের মতো জনবহুল দেশেও এলপিজি (LPG) এবং অপরিশোধিত তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। তবে এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে মোদী সরকারের ‘প্ল্যান বি’ (Plan B) আপাতত স্বস্তি দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
মোদীর ‘প্ল্যান বি’: জোগান স্বাভাবিক রাখাই লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান কমতেই ভারত সরকার দেশীয় স্তরে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দৈনিক উৎপাদন ৩৬ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার টন করা হয়েছে। এর ফলে রান্নার গ্যাসের আকাল অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর থেকে আবগারি শুল্ক কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
তেল সংস্থাগুলির কাঁধে ১ লক্ষ কোটির বোঝা! আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হলেও ভারতের বাজারে গত ১০ সপ্তাহ ধরে জ্বালানির দাম স্থির রয়েছে। আর এখানেই লুকিয়ে আছে বড় বিপদ। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরনো দামে তেল বিক্রি করতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলো (IOC, BPCL, HPCL) প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়ছে। সূত্রের দাবি, গত আড়াই মাসে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
সঙ্কটে ভারতের আমদানি বাণিজ্য বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের ৪০ শতাংশ, এলপিজির ৯০ শতাংশ এবং এলএনজির ৬৫ শতাংশ আমদানি এই রুট দিয়ে হয়। হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসায় এই বিপুল পরিমাণ আমদানির ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। পাকিস্তান থেকে ব্রিটেন— বিশ্বের বহু দেশেই যখন তেলের দাম লাগামছাড়াভাবে বাড়ছে, সেখানে ভারত এখনও তেলের দাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যদিও মার্চ মাসে সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় যৎসামান্য।
১৫ মে কি তবে ‘ডেডলাইন’? প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলি আর কতদিন এই বিপুল আর্থিক চাপ সহ্য করতে পারবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যা তাতে সংস্থাগুলিকে বাজার থেকে ঋণ নিতে হতে পারে। ‘বিজনেস টুডে’-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে-র আগেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বড় কোনও ঘোষণা করতে পারে সরকার।
এখন দেখার, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে মোদী সরকার তেলের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে রাখতে পারে, নাকি যুদ্ধের আঁচ সরাসরি এসে পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে।