মাস্ক না কি ঘরে বন্দি— হান্টাভাইরাস নিয়ে কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা? আর্জেন্টিনা থেকে আসা মৃত্যু-সংবাদে ঘুম ছুটল সবার!

বিশ্বজুড়ে যখন করোনাভাইরাসের আতঙ্ক স্মৃতি হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই নতুন এক ভাইরাসের দাপটে ফের সিঁদুরে মেঘ দেখছে সাধারণ মানুষ। নাম— হান্টাভাইরাস (Hantavirus)। সম্প্রতি আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামক একটি জাহাজে এই ভাইরাসের মারণ কামড়ে ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে— তবে কি ফের এক ভয়াবহ অতিমারি ও লকডাউনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমরা?
কী ঘটেছে এমভি হন্ডিয়াসে? জানা গিয়েছে, ওই জাহাজের একাধিক যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। একটি আবদ্ধ জায়গার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকার ফলেই এই ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ সংক্রমণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)? বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের অহেতুক আতঙ্ক কাটাতে মুখ খুলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। ‘মহামারি ও অতিমারি ব্যবস্থাপনা’ বিভাগের ডিরেক্টর ডা. মারিয়া ভ্যান কারখোভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এটি কোভিড নয়, এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে ছড়ায়। এর অস্তিত্ব বহু বছর ধরেই রয়েছে এবং এটি কোনো নতুন অতিমারির সূচনা নয়।”
হু-এর জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির ডিরেক্টর ডা. আবদিরাহমান মাহামুদ আশ্বস্ত করে বলেন, “২০১৮-২০১৯ সালেও আর্জেন্টিনায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমরা যদি আইসোলেশন এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং (আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ) ঠিকমতো করতে পারি, তবে এই সংক্রমণের শৃঙ্খল সহজেই ভেঙে ফেলা সম্ভব।”
হান্টাভাইরাস বনাম কোভিড-১৯: পার্থক্য কোথায়? অনেকেই হান্টাভাইরাসকে কোভিডের মতো সংক্রামক মনে করছেন, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য বলছে অন্য কথা:
-
সংক্রমণ পদ্ধতি: কোভিড যেখানে বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, হান্টাভাইরাস মূলত একটি ‘জুনোটিক’ বা প্রাণীবাহিত রোগ। এটি মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ছড়ায়।
-
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ: কোভিডের মতো এটি সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। কেবল দীর্ঘ সময় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলেই এর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
-
প্রাণঘাতী ক্ষমতা: একক সংক্রমণের ক্ষেত্রে হান্টাভাইরাস কোভিডের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে এটি কোনো বিশাল অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে না।
লকডাউন কি তবে অনিবার্য? এখনও পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যা ইঙ্গিত, তাতে লকডাউন বা মাস্ক পরার মতো বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এটি মূলত জাহাজের মতো একটি নির্দিষ্ট ও আবদ্ধ পরিবেশে সীমাবদ্ধ। সঠিক জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চললে এই প্রাদুর্ভাব সামলানো সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুতরাং, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সংক্রামক রোগ নিয়ে সচেতনতা বজায় রাখাই এখন সময়ের দাবি। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য পরামর্শ— গুজবে কান না দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করুন।