বারাসত-মধ্যমগ্রামের ডেরায় অপারেশন ‘কিলার’! চন্দ্রনাথ খুনে ভিন রাজ্যের শুটারদের গাইড ছিল স্থানীয়রাই?

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে এবার তদন্তের অভিমুখ ঘোরাল পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের ঘটনায় ভিন রাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের কাজে লাগানো হলেও, তাদের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ বা স্থানীয় রসদ জুগিয়েছে এলাকারই কোনো দুষ্কৃতী গ্যাং। রেইকি করা থেকে শুরু করে খুনের পর নিরাপদ ‘এগজিট রুট’ বা পালানোর রাস্তা বাতলে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
স্থানীয় গ্যাং ও ‘গাইড’ তত্ত্ব
সিট (SIT) এবং সিআইডি-র গোয়েন্দাদের দাবি, চন্দ্রনাথের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিকে খুনের পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত নিঁখুত। বাইরের রাজ্যের কোনো শুটারের পক্ষে মধ্যমগ্রাম বা বারাসতের গলিপথ চেনা সম্ভব নয়। তাই অপারেশন সফল করতে স্থানীয় গ্যাংয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। কারা এই লজিস্টিক সাপোর্ট দিল? উত্তর খুঁজতেই এখন মধ্যমগ্রাম ও বারাসত থানার পুরনো অফিসারদের সাহায্য নিচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। ওই এলাকার সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর সদস্যদের বর্তমান গতিবিধি ও মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভিন রাজ্যের গাড়ি ও শার্প শুটার
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। খুনের দিন যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি পার্শ্ববর্তী কোনো রাজ্যের হতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের। ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী রাজ্যের এসটিএফ (STF)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলার পুলিশ। পেশাদার কিলাররা ভিন রাজ্য থেকে আসলেও, তাদের থাকার জায়গা এবং খুনের আগের দিনগুলোতে রেকি করানোর দায়িত্বে কারা ছিল, তা জানতেই এখন মরিয়া গোয়েন্দারা।
জাল গুটাচ্ছে পুলিশ
জেলায় সক্রিয় থাকা পুরনো অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের সোর্স ও হিউম্যান ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগাচ্ছে জেলা পুলিশ। গোয়েন্দারা মনে করছেন, স্থানীয় কোনো বড় মাথার মদত ছাড়া এই ধরণের অপারেশন চালানো সম্ভব নয়। ভিন রাজ্যের গ্যাংস্টারদের সঙ্গে এই বাংলার কোনো দুষ্কৃতী চক্রের যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার না হলেও, সংগৃহীত তথ্য ও সোর্সের মাধ্যমে খুনিদের বৃত্তটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে বলে দাবি পুলিশের।