৯০০ কোটির জল-কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর পতন! ইডির পর এবার এসিবি-র জালে হেভিওয়েট মহেশ জোশী

রাজস্থানে ৯০০ কোটি টাকার ‘জল জীবন মিশন’ (JJM) কেলেঙ্কারিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল দুর্নীতি দমন ব্যুরো (ACB)। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেফতার করা হলো রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মহেশ জোশীকে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের (PHED) মন্ত্রী থাকাকালীন পদের অপব্যবহার এবং টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ইডির পর এবার এসিবির অ্যাকশন
উল্লেখ্য, এই একই মামলায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে মহেশ জোশীকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত শেষ হওয়ার পর সমস্ত নথি ও প্রমাণ তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজ্য এসিবির হাতে। গত ৩০ অক্টোবর ২০২৪-এ এসিবি মহেশ জোশী এবং আরও ২২ জন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। অবশেষে সেই সূত্র ধরেই এবার জালে জড়ালেন প্রাক্তন এই দাপুটে মন্ত্রী।
একটি রহস্যময় ইমেল এবং কোটি কোটি টাকার হদিশ
এসিবি সূত্রের খবর, তদন্ত চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডি থেকে তদন্তকারীরা এমন কিছু সূত্র পান, যা তাঁদের সামনে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ খুলে দেয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেন খতিয়ে দেখতেই বেরিয়ে আসে প্রাক্তন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের যোগসূত্র। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘শ্যাম টিউবওয়েল’ এবং ‘গণপতি টিউবওয়েল’-এর মতো সংস্থাগুলিকে জাল শংসাপত্রের ভিত্তিতে বড় বড় টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অভিযুক্তের তালিকায় কে কে?
কেবল মহেশ জোশীই নন, এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের একঝাঁক শীর্ষ কর্তার। এফআইআর-এ নাম রয়েছে:
সুনীল শর্মা (আর্থিক উপদেষ্টা, জেজেএম)
রাম করণ মীনা ও দীনেশ গোয়েল (তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী)
অরুণ শ্রীবাস্তব ও রমেশ চাঁদ মীনা (অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী)
এছাড়াও বেশ কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলী।
তদন্তের গতিপথ
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম জাল সার্টিফিকেটের বিষয়টি সামনে আসতেই সক্রিয় হয় এসিবি। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সিবিআই-ও একটি পৃথক মামলা দায়ের করে। ইডি এবং সিবিআই-এর গোয়েন্দাগিরির পর এসিবি-র এই গ্রেফতারি রাজস্থানের রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বিজেপি শাসিত রাজস্থানে প্রাক্তন কংগ্রেস মন্ত্রীর এই গ্রেফতারি স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকেই তুলে ধরছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ৯০০ কোটির এই কেলেঙ্কারির জাল আর কতদূর বিস্তৃত, তা জানতেই এখন মহেশ জোশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আধিকারিকরা।