‘অপারেশন সিঁদুর’ শেষ নয়, এটা তো শুরু! জয়পুর থেকে পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি ভারতীয় সেনার

ঠিক এক বছর আগের সেই স্মৃতি আজও টাটকা। ২০২৫ সালের ২২শে এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলার ক্ষত মুছে দিতে গর্জে উঠেছিল ভারতীয় সেনা। শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। আজ, ৭ই মে সেই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রথম বার্ষিকীতে রাজস্থানের জয়পুর থেকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। সাফ জানিয়ে দিলেন, “অপারেশন সিঁদুর কোনো শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু মাত্র।”
“শত্রুকে উচিত শিক্ষা দিয়েছি”
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে ভারত তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করেছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে শত্রুর ডেরায় তীক্ষ্ণ আঘাত হানা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা সফল হয়েছি এবং শত্রুকে বুঝিয়ে দিয়েছি যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই থামবে না।” সেনার এই ঝটিকা অভিযানে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল, যার ফলে তারা শেষমেশ শান্তি ও যুদ্ধবিরতির আবেদন জানাতে বাধ্য হয়।
রণক্ষেত্রে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র দাপট
এই অভিযানের সবথেকে বড় বিশেষত্ব ছিল দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার। জেনারেল ঘাই সগর্বে জানান, বর্তমানে ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের ৬৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়ভাবে উৎপাদিত। তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত ব্রহ্মোস, আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত নজরদারি সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুটের সিংহভাগই ভারতে তৈরি। এটি প্রমাণ করেছে যে ‘আত্মনির্ভরশীলতা’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটিই এখন আমাদের প্রকৃত শক্তি।”
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পথে হাঁটেনি ভারত
ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে না হেঁটে ভারত অত্যন্ত কম সময়ে ও নির্ভুলভাবে এই অভিযান শেষ করেছে। জেনারেল ঘাইয়ের মতে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিখুঁত তথ্য এবং সাইবার ইউনিটের আধিপত্যের কারণেই ন্যূনতম হতাহতের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা কঠোর আঘাত হেনেছি এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জন করার পরই শত্রুতা নিরসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সেনাবাহিনীর এই দাবি থেকে স্পষ্ট যে, ভারত এখন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি শক্তির মুখাপেক্ষী নয়। নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র দিয়েই যে কোনো মুহূর্তে সীমান্ত পেরিয়ে শত্রুকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে নতুন ভারত। আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন যেন সেই বার্তাই পৌঁছে দিল ইসলামাবাদে।