২৪-এই বাজিমাত, ঘরে খিল দিয়ে চলত তপস্যা! সিকিমের নতুন ‘ডিসি’ পরি বিষ্ণোইকে চেনেন?

ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মানেই যেন এক দুর্ভেদ্য পর্বত জয় করা। সাফল্যের সেই চূড়ায় পৌঁছাতে কেউ কেউ বছরের পর বছর ঘাম ঝরান, আবার কেউ সঠিক কৌশল আর ইস্পাতকঠিন পরিশ্রমে কম বয়সেই ইতিহাস তৈরি করেন। এমনই এক নাম পরি বিষ্ণোই। মাত্র ২৪ বছর বয়সে আইএএস (IAS) অফিসার হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই কন্যে। সম্প্রতি সিকিম সরকার এক বড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়ে পরিকে পাকইয়ং জেলার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর (DC) হিসেবে নিযুক্ত করেছে।

সাফল্যের রাজকীয় সফর
রাজস্থানের বিকানেরের বাসিন্দা পরি বিষ্ণোইয়ের রক্তেই ছিল নিয়ম ও অনুবর্তিতা। তাঁর বাবা মণিরাম বিষ্ণোই পেশায় আইনজীবী এবং মা সুশীলা বিষ্ণোই রেল পুলিশ বা আরপিএফ-এর ইন্সপেক্টর। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী পরি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে যথাক্রমে ৯১ ও ৮৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজ থেকে স্নাতক এবং পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পাশাপাশি তিনি নেট-জেআরএফ (NET-JRF) পরীক্ষাতেও সফল হন।

নিজেকে ঘরে বন্দি রাখার সেই কঠিন দিনগুলো
সাফল্য কিন্তু প্রথমবারেই ধরা দেয়নি। প্রথম দুই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর ভেঙে না পড়ে জেদ বাড়িয়ে দেন পরি। ২০১৯ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি সারা ভারতে ৩০তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। নিজের প্রস্তুতির গল্প শোনাতে গিয়ে পরি জানান, পরীক্ষার আগে তিনি নিজেকে একটি ঘরে প্রায় বন্দি করে ফেলেছিলেন। বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে শুধুমাত্র ইন্টারনেটকে হাতিয়ার করে পড়াশোনায় ডুবে থাকতেন। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে সিকিম ক্যাডারের আইএএস হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।

রাজনৈতিক পরিবারের ঘরনি
আইএএস পরির ব্যক্তিগত জীবনও বেশ চর্চিত। ২০২৩ সালে তিনি হরিয়ানার বিজেপি বিধায়ক ভাব্যা বিষ্ণোইর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ভাব্যা হলেন হরিয়ানার দাপুটে নেতা কুলদীপ বিষ্ণোইর পুত্র এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভজন লালের নাতি। অর্থাৎ, দক্ষ প্রশাসনিক কর্তার পাশাপাশি পরি বর্তমানে একটি হেভিওয়েট রাজনৈতিক পরিবারের যোগ্য পুত্রবধূও বটে।

সিকিম হাউসের ডেপুটি রেসিডেন্ট কমিশনার থেকে জেলাশাসক— পরির এই উত্তরণ প্রমাণ করে যে লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্য অনিবার্য। যারা ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের কাছে এই তরুণ আইএএস অফিসার আজ এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা।