রেকর্ড ভাঙা সাফল্য! ৩২ বছরের খরা কাটিয়ে গুজরাটে মাধ্যমিকের ঐতিহাসিক ফলাফল

গুজরাট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (GSEB) চলতি বছরের দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এ বছরের পরিসংখ্যান কেবল অভাবনীয়ই নয়, বরং তা গত তিন দশকের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। রাজ্যজুড়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩.৮৬ শতাংশে, যা গত ৩২ বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ফলাফল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সাফল্যের মাইলফলক ও নর্মদার চমক
এবারের ফলাফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের ছবি উঠে এসেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে উল্লেখনীয়ভাবে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, রাজ্যের মোট ১,৬৯৭টি স্কুল শতভাগ পাসের হার অর্জন করে অভাবনীয় কৃতিত্ব দেখিয়েছে। জেলাভিত্তিক পারফরম্যান্সে ৯০.৮৫ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্মদা। অন্যদিকে, ৭৬.৪২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তার পরেই অবস্থান করছে পঞ্চমহল। গান্ধীনগরের আজোল কেন্দ্র যেমন শতভাগ সফলতার মুখ দেখেছে, ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে দাহোদের মুনখোসলা কেন্দ্রে, যেখানে ফলাফল ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক।

ছাত্রীদের আধিপত্য ও বিষয়ের চ্যালেঞ্জ
লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা সাফল্যের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে। মেয়েদের পাসের হার ৮৮.২৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের হার ৮০.১২ শতাংশ। এছাড়া ৩৫,৫০৮ জন শিক্ষার্থী এ১ (A1) গ্রেড পেয়ে মেধার পরিচয় দিয়েছে। মাধ্যমের বিচারে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা ৯২.৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে এগিয়ে থাকলেও, গুজরাটি মাধ্যমের হার ছিল ৮২.৬৭ শতাংশ।

তবে সব বিষয়ের মধ্যে প্রাথমিক গণিত বা ‘বেসিক ম্যাথমেটিক্স’ শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়েই সবথেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজবিজ্ঞানেও আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী।

ফেল করলেও থাকছে দ্বিতীয় সুযোগ
এ বছরের সবচেয়ে বড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো ‘ইম্প্রুভমেন্ট’ বা মানোন্নয়ন পরীক্ষা পদ্ধতি। যদি কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারে বা আশানুরূপ ফল না পায়, তবে সে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এই দুই পরীক্ষার মধ্যে যেটির ফল ভালো হবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং ঝরে পড়ার হার রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আনন্দের এই জোয়ারের মাঝেও উদ্বেগের কাঁটা হয়ে বিঁধেছে ৩৯টি স্কুল, যেখানে একজন শিক্ষার্থীও পাসের মুখ দেখেনি। সামগ্রিকভাবে, ৩২ বছরের সেরা এই ফলাফল গুজরাটের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন আশার আলো দেখালেও, পিছিয়ে পড়া স্কুল ও কঠিন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিচ্ছে।