মহানন্দার প্রবল স্রোতে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল বিহার-বঙ্গ সংযোগকারী সেতু! বাইক নিয়ে মাঝনদীতে তলিয়ে গেলেন আরোহীরা, তারপর?

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ফুঁসছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলো। আর সেই জলের তোড়েই এবার সলিল সমাধি ঘটল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর। বিহারের কাটিহার জেলার বারসোই ব্লকের শিবানন্দপুর পঞ্চায়েত এলাকায় মহানন্দা ও কুলিক নদীর সঙ্গমস্থলে থাকা ঝুলন্ত ‘চাচারি’ সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বাইক নিয়ে নদীগর্ভে আরোহীরা:
ঘটনাটি ঘটে তারাপুর ঘাটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যখন সেতুটি ধসে পড়ে, তখন তার ওপর দিয়ে দুটি বাইক যাচ্ছিল। ব্রিজের কাঠামোটি ছিঁড়ে পড়তেই বাইক আরোহীরা সোজা গিয়ে পড়েন মহানন্দার উত্তাল স্রোতে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা কালবিলম্ব না করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী থেকে বাইক এবং আরোহীদের নিরাপদে উদ্ধার করে আনেন তাঁরা। বড়সড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিচ্ছিন্ন দুই রাজ্যের যোগাযোগ:
এই সেতুটি কেবল একটি বাঁশের কাঠামো ছিল না, এটি ছিল বিহারের আবাদপুর থানা এলাকার অন্তত পাঁচটি পঞ্চায়েতের মানুষের লাইফলাইন। বিহারের তারাপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের গোরাহার গ্রামকে সংযুক্ত করত এই পথ। মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাজারের ওপর নির্ভরশীল সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষের রুজি-রুটি এখন সংকটে। সেতুটি ধসে পড়ায় স্কুল, হাসপাতাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াত পুরোপুরি থমকে গিয়েছে।
কেন এই বিপর্যয়?
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার সময় নদীর জল বাড়লে এই অস্থায়ী সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মহানন্দা ও কুলিক নদীর জোরালো স্রোতে সেতুটির খুঁটি আলগা হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা। গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গায় একটি পাকা ও স্থায়ী সেতুর আবেদন জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কোনো হেলদোল দেখা যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সেতুর ওপর ভরসা করতে হতো তাঁদের।
আপাতত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কার্যত গৃহবন্দি কয়েক হাজার মানুষ। এখন দেখার, কত দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে তৎপর হয় প্রশাসন।