‘বাংলায় লড়াই কমিশনের সঙ্গে হয়েছে, বিজেপির সঙ্গে নয়!’ হারের পর বিস্ফোরক কপিল সিব্বল

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় পালাবদলের পর এবার মুখ খুললেন প্রবীণ আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিব্বল। রাজ্যের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা লড়া এই দুঁদে আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নির্বাচন আসবে যাবে, কিন্তু দিনশেষে সংবিধানের যেন পরাজয় না হয়। বাংলায় ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ধরণ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

‘বদলা না কি বদল?’ প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন সিব্বলের
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিব্বল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগানকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলছেন তাঁরা বদলের নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, সেখানে সরকার ভেঙে নতুন সরকার গড়া কি বদলের রাজনীতি? আপনারা কি চান দেশে কোনো বিরোধী দল না থাকুক?”

কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তোপ
বাংলার ভোট প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন সিব্বল। তাঁর দাবি, এই লড়াই মূলত হয়েছে তৃণমূল বনাম নির্বাচন কমিশনের মধ্যে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলার সুরক্ষার জন্য ২৪০০ ব্যাটালিয়ন পাঠানো হয়েছিল। ১৭ হাজার সিএপিএফ জওয়ান মোতায়েনের কথা বলেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অথচ এখন তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধেই হিংসা চলছে। আপনার বাহিনী তখন কী করছে? এতদিন বলা হতো তৃণমূল হিংসা করে, আজ যখন উল্টোটা হচ্ছে তখন কেন সবাই চুপ?”

ভোট গণনা ও ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ
গণনা কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিব্বল দাবি করেন, যেখানে বেশি ভোট ‘ডিলিট’ হয়েছে, সেখানেই বিজেপি জিতেছে। তিনি বলেন, “কাউন্টিং সেন্টারে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। রাউন্ড ভিত্তিক গণনার কোনো সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। যদি কোনো অশান্তি না হয়ে থাকে, তবে কমিশন ভিডিও প্রকাশ করছে না কেন? নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ দিন পর্যন্ত সেই ফুটেজ রাখা বাধ্যতামূলক।”

এজেন্সির সক্রিয়তা ও মেরুকরণের রাজনীতি
ভোটের আগে ইডি এবং সিবিআই-এর অতিসক্রিয়তা নিয়েও সরব হন তিনি। সিব্বল অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মুখে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে রেইড করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ভোটে সরাসরি সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়া হয়েছে। হিন্দুদের এক হতে বলা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে বাংলা না কি বাংলাদেশ হয়ে যাবে! এই ধরণের আবেদন জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করা উচিত।”

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের ‘বদলার রাজনীতি’ দিয়ে দেশ কখনও এগোতে পারে না। সংবিধানকে রক্ষা করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।