‘আমি কে?’ স্কুটিতে ঘোরা শমীকের বাড়ির সামনে হঠাৎ পাইলট কার, বাংলায় পালাবদলে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতায় রাজ্য সভাপতি!

দেড় দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা আর চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গিয়েছে। দীর্ঘ লড়াই, একাধিক আন্দোলন আর আইনি লড়াইয়ের পথ পেরিয়ে এই প্রথম বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ঘাসফুল শিবিরকে সরিয়ে বাংলার মসনদে এখন পদ্ম। আর এই জয়ের কাণ্ডারীদের মধ্যে যিনি একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন, তিনি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে ঐতিহাসিক এই পালাবদল আর ক্ষমতার উত্তাপ যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না দীর্ঘদিনের এই পোড়খাওয়া রাজনীতিক।
বঙ্গ বিজেপিতে শমীক ভট্টাচার্য এক পরিচিত নাম। দলের দুঃসময় থেকে শুরু করে আজকের এই উত্থান—সবটাই নিজের চোখে দেখেছেন তিনি। সামলেছেন একের পর এক রাজনৈতিক ঝড়। আজ যখন বিজেপি বাংলার মসনদে, তখন তাঁর নিজের জীবনই আমূল বদলে গিয়েছে। সে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানালেন, জয়ের পর ভালো করে ঘুমোতেও পারেননি। রাত দুটোয় ঘুমানোর পর ভোর হতেই সাংবাদিকদের ভিড়। শমীক বলেন, “আমরা যে সত্যি ক্ষমতায় এসে গিয়েছি, এটা এখনও ঠিকঠাক আত্মস্থ করতে পারিনি।”
এখন তাঁর জীবনযাত্রা অনেকটা রূপোলি পর্দার তারকাদের মতো। সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই নেতার কাছে রাজকীয় নিরাপত্তা যেন কিছুটা অস্বস্তির। অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হঠাৎ দেখলাম বাড়ির সামনে একটা পাইলট কার দাঁড়িয়ে। একজন স্যালুট দিয়ে উঠল। আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি ব্যাপারটা। আমার তো এসবের কোনোদিন প্রয়োজন হয়নি। স্কুটিতে চড়ে ঘুরে বেড়াতাম, কোনোদিন আলাদা করে নিরাপত্তা নিইনি। হঠাৎ এসব কেন? মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কে?”
একটা সময় ছিল যখন শমীক ভট্টাচার্যকে নিজের পরিচয় দিয়ে বোঝাতে হতো তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আর আজ সেই পরিচয়ই তাঁকে নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলেছে। পুরনো দিনের কথা মনে করে তিনি বলেন, “একসময় তপনদার স্কুটারের পিছনে বসে মিডিয়া অফিসে যেতাম। আর এখন সকালে সেই তপনদার স্কুটারের জায়গা নিয়েছে পাইলট কার। সবটা ভাবতেই অবাক লাগছে।”
তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই নতুন এক জল্পনা এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে। বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই দৌড়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামের পাশাপাশি প্রবলভাবে উঠে আসছে শমীক ভট্টাচার্যের নামও। শেষ পর্যন্ত বাংলার শাসনভার কার হাতে উঠবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।