বেকার ভাতা থেকে অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা— ক্ষমতায় এসে প্রথম ১ বছরে কী কী করবে বিজেপি? তালিকা দিলেন শুভেন্দু

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে পা রেখেই জনজোয়ারে ভাসলেন শুভেন্দু অধিকারী। জয়ধ্বনি আর ফুলের মালায় তাঁকে বরণ করে নেন কর্মী-সমর্থকরা। নন্দীগ্রামের মানুষের এই উন্মাদনা দেখে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আগামী দিনে বিজেপি সরকারের লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু।

নারীদের নিরাপত্তা ও ‘প্রকৃত’ পরিবর্তন

শুভেন্দু অধিকারী এদিন নারী নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি বলেন, “মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না— এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্যমন্ত্রী বলবেন না।” তিনি আশ্বাস দেন যে, বিজেপি সরকারে মহিলারা পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পাবেন।

বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি

রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত উপযুক্ত ‘বেকার ভাতা’ দেওয়ার বিষয়েও জোর দেন তিনি।

বিজেপির ‘পঞ্চ-সংকল্প’:

আগামী দিনে সরকার কোন পথে চলবে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন শুভেন্দু:
১. সংকল্পপত্র পূরণ: অমিত শাহ ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
২. সুরক্ষিত সীমান্ত: অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়তে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩. নিরাপত্তা: নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
৪. স্বচ্ছ নিয়োগ: সরকারি চাকরিতে সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি নির্মূল করে স্বচ্ছতা আনা।
৫. বিনিয়োগ: রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।

শান্তি বজায় রাখার বার্তা

ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে যাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর দিচ্ছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী এদিন দলীয় নেতাকর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কেউ যেন কোনো প্ররোচনায় পা না দেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “আগামী এক বছরের মধ্যেই বাংলার মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন। মোদীর গ্যারান্টি এবং অমিত শাহর ঘোষিত সংকল্পপত্র সময়মতো পূরণ করতে বিজেপি দায়বদ্ধ।” নন্দীগ্রামের এই মেজাজ বুঝিয়ে দিল, পরিবর্তনের লড়াইয়ে বিজেপি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।