অসম্মান করলেই ৩ বছরের জেল! ‘জনগণমন’-র সমান মর্যাদা পেল ‘বন্দে মাতরম’, জারি কড়া আইন

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির ক্ষমতা দখল কেবল রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় স্তরেও বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলায় এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই ভারতের রাষ্ট্রীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই সৃষ্টিকে এবার জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র সমমর্যাদা দেওয়ার পথে হাঁটল মোদী মন্ত্রিসভা।

আইনে বড় বদল: অসম্মান করলেই কড়া শাস্তি

এতদিন পর্যন্ত ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সংগীতকে অবমাননা করলে আইনি ব্যবস্থা, জরিমানা বা কারাবাসের বিধান ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই আইনের ‘সেকশন ৩’ সংশোধন করা হচ্ছে। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম’ এখন থেকে ‘জনগণমন’-র সমান আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা পাবে। অর্থাৎ, বন্দে মাতরম গাওয়ার সময় অনীহা প্রকাশ বা কোনোভাবে অসম্মান প্রদর্শন করলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং মোটা টাকা জরিমানা হতে পারে।

বাধ্যতামূলক ৬টি স্তবক ও নতুন প্রোটোকল

চলতি বছর জানুয়ারি মাসেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো এখন থেকে বাধ্যতামূলক।

যদি দুটি গান একসঙ্গে বাজানো হয়, তবে প্রোটোকল অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ প্রথমে বাজবে।

গানটি বাজার সময় শ্রোতাদের সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বন্দে মাতরমের সবকটি (৬টি) স্তবকই গাইতে হবে।

বঙ্গ জয়ের প্রভাব?

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বন্দে মাতরমের জন্মস্থান বাংলা, আর সেই রাজ্যেই সরকার গড়ার পর এই গানকে জাতীয় স্তরে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে কেন্দ্র কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারল। একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদের আবেগকে উসকে দেওয়া হলো, অন্যদিকে বাংলার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকেও সম্মান জানানো হলো।

জাতীয় সংহতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সরকারি স্তরে। তবে এই নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রতিফলন কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার।