হার মানতে নারাজ মমতা, রাজপথ কাঁপাতে আসছেন অখিলেশ! কলকাতাতে কি তবে ‘বাংলাদেশ মডেল’-এর পুনরাবৃত্তি?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও, বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে যবনিকা পড়ল না। পরাজয় মেনে নিতে সাফ অস্বীকার করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি পদত্যাগ করেননি, বরং এই ফলকে ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে দেগে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।

কলকাতায় নজিরবিহীন প্রতিরোধের ছক!
রাজনৈতিক মহলে প্রবল গুঞ্জন, পরাজয়ের গ্লানি মুছে পালটা জনশক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, কলকাতায় একটি বিশাল রোড শো-এর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া সেই ২৭ লক্ষ ভোটারকে এই মিছিলে সামিল করা হতে পারে, যাদের একটি বড় অংশকে বিজেপি ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাবি করে আসছিল। এই মেগা মিছিলে সংহতি জানাতে অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের একাধিক হেভিওয়েট নেতার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যপালকে অস্বীকার করা এবং রাজভবনে না যাওয়ার মতো চরম ঘোষণা করতে পারেন মমতা।

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও ‘ডিপ স্টেট’ ফ্যাক্টর:
এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী। তাঁর দাবি, ভারতের বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিআইএ’ (CIA) বা ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে ‘পুতুল সরকার’ মডেল দেখা গিয়েছিল, সেই একই কৌশলে কি পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতার পরিবর্তন রুখতে চাইছে কোনো অদৃশ্য শক্তি? গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বা বিশেষ ধর্মীয় রাষ্ট্র গঠনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ওয়াশিংটন পোস্টের অতি-সক্রিয়তা এই সন্দেহকে আরও জোরালো করছে।

জঙ্গি যোগ ও নাশকতার ছায়া:
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আবহেই দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল মালদহ ও মুর্শিদাবাদ থেকে আইএসআই (ISI) এবং বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। দিল্লি ও কলকাতায় ‘ফ্রি কাশ্মীর’ পোস্টার লাগানো এবং মেট্রো স্টেশনে নাশকতার ছক বানচাল হয়েছে। এমনকি দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়েই ঢুকেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘোড়া কেনাবেচা ও অর্থের যোগান:
যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য রাজভবন থেকে সময় দেওয়া হয়, তবে সেই সুযোগে বিধায়ক ভাঙানোর (Horse-trading) খেলা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, এই কাজে বাংলাদেশের জামাত, পাকিস্তানের আইএসআই কিংবা আনসারুল্লা বাংলা-র মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থের যোগান থাকতে পারে। তৃণমূলের এই ‘ভোট চুরি’র দাবিকে ইতিমধ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কোন দিকে যাচ্ছে বাংলা?
বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। যদি তার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করেন, তবে রাজ্যপালের হাতে দুটি বিকল্প থাকছে— হয় তাঁকে বরখাস্ত করা, অথবা রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করা। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা বাংলার ইতিহাসের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। রাজপথের লড়াই নাকি আইনি লড়াই— শেষ হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে বঙ্গবাসী।