টলিউডেও কি এবার ‘খেলা শেষ’? ইম্পা অফিসে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ প্রযোজকদের, পিয়ার পদত্যাগের দাবিতে রণক্ষেত্র স্টুডিও পাড়া!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ছোঁয়া এবার টলিপাড়ায়। বিজেপির জয়ের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই উত্তাল হয়ে উঠল ইম্পা (EIMPA) অফিস। সোমবার বিকেলে টলিউডের একঝাঁক প্রযোজক ও পরিবেশক ইম্পা অফিসে ঢুকে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন। তাঁদের দাবি, বিগত সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা ‘জঞ্জাল’ মুক্ত করে ইম্পাকে অরাজনৈতিক সংস্থায় পরিণত করতে হবে।
পিয়ার পদত্যাগের দাবিতে সরব টলিপাড়া:
আন্দোলনকারী প্রযোজকদের প্রধান লক্ষ্য এখন ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁদের অভিযোগ, এতদিন সংগঠনের মাথায় বসে একনায়কতন্ত্র চালিয়েছেন পিয়া। প্রযোজকদের দাবি, পিয়ার ছেলে বনি সেনগুপ্তকে ছবিতে না নিলে সেই ছবি রিলিজ করতে বাধা দেওয়া হতো। এমনকি, ছবি মুক্তির এনওসি (NOC) দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক। তাঁর কথায়, “আমার ছবি ‘খাঁচা’র মুক্তির জন্য ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে কাজ মেটাতে হয়।”
ফেডারেশনের ‘দাদাগিরি’ কি শেষ?
শুধু পিয়া সেনগুপ্ত নন, প্রযোজকদের নিশানায় রয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও। অভিযোগ উঠেছে, ফেডারেশনের বেঁধে দেওয়া নিয়মের কারণে টেকনিশিয়ানদের বাড়তি খরচ বহন করতে গিয়ে অনেক প্রযোজক পথে বসেছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে টালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের হারের পর এখন ফেডারেশনের রাশ আলগা করতে মরিয়া ইন্ডাস্ট্রি। প্রযোজক পীযূষ সাহা বলেন, “আগে সরকার বিরোধী সংলাপ থাকলেও ছবি রিলিজ আটকাত না, কিন্তু গত কয়েক বছরে রাজনীতি ঢুকে ইন্ডাস্ট্রির বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।”
পাল্টা তোপ পিয়ার, থানায় অভিযোগ প্রযোজকদের:
এদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, “ইম্পা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সব সরকারের সঙ্গেই আমরা সুসম্পর্ক রাখি। আমাকে পদত্যাগ করতে হলে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে ভোটাভুটির মাধ্যমেই হবে।” বনিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি পালটা প্রমাণ চেয়েছেন এবং হেনস্থার হাত থেকে বাঁচতে পুলিশি নিরাপত্তার সাহায্য নেওয়ার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, শতদীপ সাহা, রতন সাহা ও মিলন ভৌমিকের মতো প্রভাবশালী পরিবেশকরা পিয়ার বিরুদ্ধে বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পিয়া অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সরিয়ে দিতে পারেন, তাই দ্রুত ইম্পা অফিস সিল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে জরুরি বৈঠকের আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এখন দেখার, সরকার বদলের পর টলিউডের এই ক্ষমতার লড়াই কোন মোড় নেয়। ‘রঙমুক্ত’ ইন্ডাস্ট্রির ডাক দিলেও আগামীর দিনগুলো টালিগঞ্জের জন্য কতটা স্বস্তির হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।